ধর্মের নামে কোনো গোষ্ঠী যাতে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে না পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। তিনি বলেছেন, দেশে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব আনন্দপূর্ণ পরিবেশে ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করা হচ্ছে।

গতকাল রোববার একাদশ জাতীয় সংসদের ষোড়শ এবং চলতি বছরের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর নীতির কারণে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে, যা উন্নয়নের পূর্বশর্ত। সাম্প্র্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষেত্রে বিশ্বের জন্য একটি অনন্য উদাহরণ বাংলাদেশ। দেশের সব সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম চর্চা করতে পারে, সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। তিনি বলেন, 'নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুখী, সুন্দর ও উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দেওয়া আমাদের পবিত্র কর্তব্য। এ লক্ষ্যে গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং উন্নয়নের মতো মৌলিক প্রশ্নে দল-মত, শ্রেণি ও পেশা নির্বিশেষে আপামর জনগণকে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আমি উদাত্ত আহ্বান জানাই।'

সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, জনগণই সব ক্ষমতার উৎস এবং তাদের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু জাতীয় সংসদ। জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনস্ব্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে। লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত গৌরবোজ্জ্বল মহান স্বাধীনতা সমুন্নত রেখে দেশ থেকে সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদ নির্মূলের মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

রোববার বিকেল ৪টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। অধিবেশনের শুরুতে গত অধিবেশনের পর থেকে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া সাংসদদের জন্য শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও সর্বসম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়। তাদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় নীরবতা পালন ও মোনাজাত করা হয়।

সংসদের চলতি অধিবেশনের জন্য পাঁচ সদস্যের সভাপতিম লী মনোনয়ন দেওয়া হয়। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা হচ্ছেন- উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম, মঞ্জুর হোসেন, মুজিবুল হক ও পারভীন হক সিকদার। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে উপস্থিত সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে তালিকার অগ্রবর্তিতা অনুযায়ী বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।

স্পিকারের অনুরোধের পর প্রতিবারের মতো এবারও মন্ত্রিসভার ঠিক করে দেওয়া ১৬৯ পৃষ্ঠার ভাষণের সংক্ষিপ্ত অংশ পড়েন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি সংসদে পৌঁছালে তাকে রীতি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকতার মধ্য সম্ভাষণ জানানো হয়। স্পিকারের আসনের পাশে রাখা ডায়াসে দাঁড়িয়ে ভাষণ দেন তিনি। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব আনা হয় এবং এর ওপর আলোচনা করেন সাংসদরা। পরে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।

করোনা মহামারি কারণে এবার বছরের শুরুর অধিবেশনের প্রথম দিন বিদেশি অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে বলেন, ২০২১ সাল বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশের জন্য এক অবিস্মরণীয় বছর। এ বছরেই জাতি উদযাপন করেছে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রশংসা করে তিনি বলেন, জাতির পিতার আদর্শকে ধারণ করে তারই যোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে আজ বাঙালি জাতি এগিয়ে যাচ্ছে- বঙ্গবন্ধুর আজীবন লালিত স্বপ্ন সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার পথে।

মূল ভাষণের সংক্ষিপ্তসারে অর্থনীতি, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, খাদ্য-কৃষি, পরিবেশ-জলবায়ু, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের কার্যক্রম ও সাফল্য তুলে ধরেন রাষ্ট্রপ্রধান। রাষ্ট্রপতি বলেন, গত দেড় দশকে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তবে সরকারি অর্থের অপচয় রোধে সতর্ক হতে হবে।

আবদুল হামিদ বলেন, ২০৩১ সালে উচ্চ-মধ্য আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশের কাতারে শামিল হতে চাই আমরা।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদের বৈঠক সোমবার (আজ) সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি করেন।

মন্তব্য করুন