৬৬ হাজার ৫৩৫। 'কাকা' তৈমূর আলম খন্দকারকে ভোটের এই দূরত্বে রেখেই 'ভাতিজি' সেলিনা হায়াৎ আইভীর হাতে আবার উঠল নারায়ণগঞ্জ নগরের চাবি। একই সঙ্গে অটুট রইল আইভীর অপরাজেয় থাকার বিরল কৃতিত্ব। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে তার এটি হ্যাটট্রিক জয়। যে কোনো সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে টানা তিনবার জয়ের এমন কীর্তি আর কারও নেই।

বেসরকারি ফলাফলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আইভীর নৌকা পেয়েছে এক লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ ভোট। তার প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূরের হাতি পেয়েছে ৯২ হাজার ৫৬২ ভোট। ভোট গ্রহণ শেষে ঢাকায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সচিব হুমায়ুন কবির খোন্দকার জানিয়েছেন, ভোট পড়েছে ৫০ শতাংশ।

গতকাল রোববার ভালো এক নির্বাচনের দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে নারায়ণগঞ্জ। গত কয়েক বছরে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে সংঘাত, প্রাণহানি ও জাল-জালিয়াতির মতো অনিয়মই পরিণত হয়েছিল নিয়মে। নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ধারাবাহিক অভিযোগের মধ্যে নাসিক নির্বাচন প্রশ্নহীন ভোটের উদাহরণ তৈরি করেছে। নারায়ণগঞ্জে অবাধ ও উৎসবমুখর নির্বাচন হওয়ার পেছনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির হিসাব-নিকাশকেও আমলে নিচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্নেষকরা।

তারা বলছেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদের শেষ সময়ে নারায়ণগঞ্জে ভালো ভোট বিশেষ কিছুর বার্তা দিচ্ছে। আগামী মাসে নতুন কমিশন গঠন হবে। এ নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে চলছে টানাপোড়েন। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের প্রশ্নের মুখে রয়েছে সরকার। এগুলোও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের কারণ হিসেবে কাজ হয়েছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ জয়ের পর রোববার রাতে নিজ বাড়িতে গণমাধ্যমের কাছে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আইভী বলেছেন, 'আইভী জনতার। সব সময় জনগণের ছিল। আজীবন আইভী জনগণের হয়েই থাকতে চায়। নৌকা ও আইভী এখানে এক ও অদ্বিতীয়।' আইভী উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, 'সবাইকে নিয়ে কাজ করা যাবে না। তবে তৈমূর চাচা যে ইশতেহার দিয়েছেন, সেটি ফলো করব।'

আইভী বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী আমাকে যে মুখ করে নৌকা তুলে দিয়েছিলেন, আমি সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছি। আমি আওয়ামী লীগের হয়েই থাকতে চাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দলেই থাকতে চাই। আমি জয় বাংলাই বলব।'

এর আগে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ১৯২টি কেন্দ্রের সবক'টিতে ইভিএমে ভোট নেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার বেসরকারিভাবে ফল ঘোষণা করেন। সন্ধ্যার পরপরই বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ফল আসতে শুরু করলে নগরীর দেওভোগে আইভীর বাসভবন ঘিরে তার সমর্থকরা উল্লাসে মাতেন। অন্যদিকে, নগরীর মাসদাইর এলাকায় তৈমূরের বাসভবনে নেমে আসে নীরবতা। যদিও তৈমূরের ভাই মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ কাউন্সিলর পদে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। ভোট চলাকালে তৈমূর অবশ্য বলেছিলেন, দৃশ্যমান কোনো অনিয়ম না হলে ভোটের ফল যা-ই হোক, তিনি মেনে নেবেন।

নাসিকে এবার ভোটার ছিলেন পাঁচ লাখ ১৭ হাজার। মহামারি করোনার মধ্যে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে এবার ভোটার উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কা ছিল শুরু থেকেই। ২০১১ সালে এ সিটির নির্বাচনে ভোটের হার ছিল ৬৯ শতাংশ; তবে ২০১৬ সালে তা কমে ৬২ দশমিক ৩৩ শতাংশে দাঁড়ায়। এর আগে ২০০৩ সালের পৌর নির্বাচনে চেয়ারম্যান হয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আসেন সেলিনা হায়াৎ আইভী।

রোববার দিনভর ভোট গ্রহণের পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর। কেন্দ্রগুলোর বাইরে প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ। বিচ্ছিন্ন দু-একটি ঘটনা ছাড়া কোনো কেন্দ্র থেকেই অপ্রীতিকর ঘটনার খবর মেলেনি। তরুণ থেকে অশীতিপর বৃদ্ধও আগ্রহ নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যান। তবে বয়স্ক ভোটাররা ইভিএমে ভোট দিতে সমস্যায় পড়েন। ফলে ভোটের লাইন দীর্ঘ হতে দেখা গেছে। নির্বাচনে মেয়র পদে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আইভী ও তৈমূর কেউই বড় ধরনের কোনো অনিয়মের অভিযোগ করেননি। আইভী সকালে শিশুবাগ বিদ্যালয়ে ইভিএমে ভোট দিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন। তবে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কদমতলীতে একটি কেন্দ্রে ইভিএম নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়ার কথাও তিনি জানান।

সকালে নিজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে তৈমূর কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কোথাও কোথাও ভোটারের উপস্থিতি কম দেখে গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেন, 'ইভিএম-ভীতির কারণে' হয়তো মানুষ কম।

দুটি কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের হাতাহাতির ঘটনা ছাড়া বড় কোনো গোলযোগ কোথাও হয়নি। একটি কেন্দ্রে এক কাউন্সিলর প্রার্থীর স্ত্রী ও সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। কোথাও কোনো কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হয়নি।

সকালে ভোট দেওয়ার সময় দুই প্রার্থী জয়ের ব্যাপারে আশাবাদের কথা জানান। দেওভোগের শিশুবাগ বিদ্যালয়ে ভোট দেন আইভী, অন্যদিকে ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে সকাল সকাল ভোট দেন তৈমূর।

এদিকে, নির্বাচনী কার্যক্রমে দৃশ্যমান না থেকেও সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকা সরকারদলীয় এমপি শামীম ওসমান দুপুরের পর ভোট দিতে আসেন। আদর্শ স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'যদি বলে কোনো কথা নেই। নৌকার প্রার্থী হারবে না।'

আইভী-তৈমূর ছাড়াও নির্বাচনে মেয়র পদে লড়েন আরও পাঁচ প্রার্থী। এ ছাড়া ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের বিপরীতে লড়াইয়ে ছিলেন ১৮৯ জন, সংরক্ষিত ৯টি নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের বিপরীতে লড়াইয়ে ছিলেন ৩৪ জন।

ভালো নির্বাচনের উদাহরণ নারায়ণগঞ্জ: নানা শঙ্কার কথা বলা হলেও রোববারের ভোটে দেখা যায়নি কেন্দ্র দখলের অপচেষ্টা। ছিল না পেশিশক্তির দৌরাত্ম্য। ছিল না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাড়াবাড়িও। বছর তিনেক আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিক্ত অভিজ্ঞতার নানা শঙ্কা নিয়ে ভোটাররা কেন্দ্রে এলেও এবার নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে সন্তুষ্টি নিয়ে ঘরে ফিরছেন তারা।

স্থানীয় এমপি ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানের সঙ্গে পুরোনো ও প্রকাশ্য শত্রুতা থাকলেও বেসরকারি ফলে প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তাকে অবাধ সুষ্ঠু ভোটে জয়ের কারণ মানছেন বিশ্নেষকরা। আইভীর মতো জনপ্রিয় রাজনীতিক, যিনি টানা ১৯ বছর মেয়র পদে নারায়ণগঞ্জ নগরের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন, তাকে জেতাতে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার প্রয়োজন ছিল না।

ভোটের পর সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার সমকালকে বলছেন, সেলিনা হায়াৎ আইভী একজন তারকা প্রার্থী। অতীতে তিনি শুধু নাগরিক সমাজের সমর্থন নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শামীম ওসমানকে হারিয়ে মেয়র হয়েছেন। এমন একজন প্রার্থীর জনপ্রিয়তার ওপর ভরসা করতেই পারে সরকারি দল। তাই নির্বাচনকে প্রভাবিত করার মতো ঝুঁকি নেওয়ার প্রয়োজন তাদের হয়নি।

বদিউল আলম আরও বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে সরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে চাপের মধ্যে রয়েছে। যে কারণে তারা সর্বশেষ জাতীয় সংসদ ও অন্যান্য নির্বাচনের মতো নিয়ন্ত্রিত ভোটের পথে না গিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন করেছে নারায়ণগঞ্জে। আওয়ামী লীগ প্রমাণ করতে চাইছে, বর্তমান সরকারের ওপরে আস্থা রাখা যায়। যদিও এর আগে ২০১৩ সালে বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, গাজীপুরসহ পাঁচ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনও সুষ্ঠু করেছিল আওয়ামী লীগ। ওই নির্বাচনগুলোকে তারা দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ভোটের উদাহরণ হিসেবে দেখিয়েছিল। কিন্তু পরের নির্বাচনগুলোতে তা উবে যায়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটে জনগণকে তার মাশুল দিতে হয়েছিল।

নিকট অতীতের নির্বাচনে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনিয়ম ঠেকানোর বদলে লুকাতে দেখা গেছে। কিন্তু গতকাল বিভিন্ন কেন্দ্রে ঘুরে এমন অনিয়মের ছবি খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিশেষ কোনো প্রার্থীর পক্ষে কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও ছিল না। সাংবাদিকরা অবাধে কেন্দ্রে প্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহের কাজ করতে পেরেছেন। যদিও চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেই কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা ও সাংবাদিক লাঞ্ছিত হওয়ার বহু ঘটনা রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের ভোটে সরকারি দল ও প্রশাসনের নিরপেক্ষ আচরণকে কয়েক বছরের মধ্যে বিরল মানছেন বিশ্নেষকরা। কেউ কেউ বিস্ময়ও প্রকাশ করেছেন। ভোটকেন্দ্রে সব প্রার্থী এজেন্ট ছিলেন। এমনকি আইভীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হাতি প্রতীকের তৈমূর আলম খন্দকারও একটি ছাড়া আর কোনো কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেওয়ার অভিযোগ করতে পারেননি।

অন্যান্য নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থিত ও মনোনীত প্রার্থীদের কর্মীদের কেন্দ্র একচেটিয়া উপস্থিতি ও প্রভাব দেখা যায়। নারায়ণগঞ্জে প্রতিদ্বন্দ্বীদের কর্মীরা সংখ্যায় কম হলেও নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে ছিলেন। বরং ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর এজেন্ট ছাড়া যারা কেন্দ্রে ছিলেন তাদের লাঠিপেটা করে বের করে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‌্যাব ও পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন নিরপেক্ষ অবস্থান কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বর্তমান কমিশনের সবচেয়ে আলোচিত সদস্য এবং ভিন্ন মত পোষণকারী হিসেবে পরিচিতি পাওয়া কমিশনার মাহবুব তালুকদার গতকাল নির্বাচনী এলাকা ঘুরে গিয়ে তার নিজ অফিসে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছেন, তার মেয়াদকালে কুমিল্লা সিটির পর এই নারায়ণগঞ্জ সিটির নির্বাচনই ছিল সর্বোত্তম।

তবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির হিসাবকে আমলে নিতে রাজি নন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, এই ভোটে নির্বাচন কমিশনের কৃতিত্ব নেই। আইভী একজন জনপ্রিয় প্রার্থী। তাই তাকে জেতাতে সরকারের গন্ডগোল করার প্রয়োজন হয়নি। তাই করেনি। এই ভোটের প্রভাব জাতীয় রাজনীতিতে পড়ার কোনো কারণ আছে বলেও তিনি মনে করেন না। কারণ এই ভোটে সরকার হেরে গেলেও কিছু যায়-আসে না। ক্ষমতায় যাওয়া বা হারানোর ভোট সুষ্ঠু করতে গেলে বা পরাজয়ের শঙ্কা থাকলে সরকার কেন ঝুঁকি নেবে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জের মানুষ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিল। আইভীর জয়ের পরে সন্ত্রাস ফিরে আসেনি। তাই মানুষ তার ওপর আবারও আস্থা রেখেছে। তা ছাড়া আইভীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগও ওঠেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শাহিন মাহমুদ বলেন, দেশের অন্য স্থানের চেয়ে এখানকার রাজনীতি একটু আলাদা। কারণ দীর্ঘদিন এই জনপদের মানুষকে সন্ত্রাসের মাধ্যমে দাবিয়ে রাখা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের প্রার্থী আইভীর পরিচিতি সন্ত্রাসবিরোধী হিসেবে। তাই ক্ষমতাসীন দল এমন একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে, এ জন্য নির্বাচনে জয়ী হতে অপকৌশলের দরকার হয়নি। নারায়ণগঞ্জে নৌকার চেয়ে ব্যক্তি আইভীর জনপ্রিয়। তাই প্রশাসন ও সরকারি দল অনেকটাই নিশ্চিত ছিল তার জয় নিয়ে।

মেয়র পদে আইভীর ১০ বছরে আড়াই হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে বলা হয়েছে। নগরীর অভ্যন্তরে খাল পুনরুদ্ধার করে নান্দনিক লেক নির্মাণকাজ শুরু করা এবং সড়ক ও ড্রেন নির্মাণে তিনি সফল হয়েছেন। তাই পুনর্নির্বাচিত হওয়া নিশ্চিতই ছিল বলে মনে করেন বিশ্নেষকরা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় আইভী উন্নয়ন করতে পারবেন, এ ধারণা তিনি ভোটের মাঠে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন।

একই অভিমত সন্ত্রাসবিরোধী ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব কবি হালিম আজাদের। তার মতে, আইভী জনগণনির্ভর রাজনীতিতে সম্পৃক্ত সরকারি দলের এমপি শামীম ওসমানের কৌশল ও প্রভাবকে খর্ব করতে পেরেছেন তিনি। সে কারণে নির্বাচন অনেক শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে।

মন্তব্য করুন