রাজধানীতে দুই বাসের পাল্লায় চাপা পড়ে এক কিশোর নিহত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে আজমেরী গ্লোরী পরিবহনের দুই বাসের মাঝে চাপা পড়ে সে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় বাস দুটি জব্দ করতে পারলেও এর চালকদের আটক করতে পারেনি পুলিশ। নিহত মো. রাকিবুলের (১৩) গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার গাছুয়াপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম নুরুল ইসলাম। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম।

কিশোরকে হাসপাতালে নেওয়া মুদি দোকানি হারুন অর রশিদ জানান, গতকাল বিকেল ৫টার দিকে বাস যাত্রীদের কাছে চিপস বিক্রি করছিল রাকিবুল। তখন আজমেরী পরিবহনের দুটি বাস নিজেদের মধ্যে রেষারেষি করতে গিয়ে একটি অপরটির খুব কাছে চলে আসায় রাকিবুল চাপা পড়ে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া জানান, কিশোরের মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে।

যাত্রীকে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা :গুলিস্তান যাওয়ার জন্য ইরফান আহমেদ (৪৮) রাজধানীর ডেমরার সারুলিয়া থেকে গ্রিন বাংলা পরিবহনের বাসে ওঠেন। বাসটি ওয়ারীর জয়কালী মন্দির মোড়ে পৌঁছলে ভাড়া নিয়ে সুপারভাইজারের সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। মারধর করার একপর্যায়ে সুপারভাইজার তাকে ধাক্কা দিয়ে চলন্ত বাস থেকে রাস্তায় ফেলে দেন। এর পরই বাস টান দিয়ে চলে যান চালক। মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার। অভিযুক্ত সুপারভাইজার যাত্রীর কাছ থেকে ভাড়া উঠানোর পাশাপাশি গাড়ির হেলপারিও করেন।

এ ঘটনার পর বাসটি মাতুয়াইল থেকে জব্দ এবং চালক সাগরকে আটক করা হয়েছে। সুপারভাইজার এখনও পলাতক। তাকে গ্রেপ্তার করতে একাধিক টিম মাঠে রয়েছে।

ওয়ারী থানার ওসি কবির হোসেন হাওলাদার সমকালকে বলেন, ভাড়া নিয়ে তর্ক বাধায় যাত্রীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন সুপারভাইজার। এতে তার মৃত্যু হয়েছে। ওই ব্যক্তির শরীরে কিল-ঘুষির জখম রয়েছে।

পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, ইরফান পুরান ঢাকার নবাবপুরের একটি ইলেকট্রিকের দোকানের কর্মচারী ছিলেন। স্ত্রী ইসমত আরা এবং ৯ বছরের এক মেয়ে সন্তান নিয়ে সারুলিয়ার বড় ভাঙ্গায় বাস করতেন। বাসা থেকে কর্মস্থলে তিনি বাসে যাতায়াত করতেন।

ওয়ারী থানার পেট্রোল সাব-ইন্সপেক্টর (পিএসআই) আরাফাত হোসেন জানান, সুপারভাইজারকে ঘটনাস্থল থেকে এলাকার মানুষ ধরলেও পরে তিনি কৌশলে পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে ইরফানের স্ত্রী ইসমত আরা ও ভাই রায়হান আহমেদ হাসপাতালে আসেন। স্বামীর লাশ জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইসমত। কয়েকবার চেতনাও হারান তিনি। আর্তনাদ করে বলেন, 'আমার এখন কী হবে? মেয়েটাকে কেন এতিম করে দিলে? আমাদের রেখে কেন চলে গেলে?' রায়হান অভিযোগ করেন, তার ভাইকে বাসের সুপারভাইজার রাস্তায় ফেলে হত্যা করেছে। তিনি এ ঘটনর বিচার দাবি করেন। তিনি জানান, ইরফানের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে। আজ শুক্রবার ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

ওয়ারী থানা পুলিশ জানিয়েছে, ইরফানের মৃত্যুর ঘটনায় তার স্ত্রী একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। রাত সাড়ে ৭টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলা প্রক্রিয়াধীন ছিল।



মন্তব্য করুন