বিপিএলে শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়ো পুরোনো চিত্র। ক্রিকেটের যে কোনো বিরাট যজ্ঞের বৈশিষ্ট্যই তাই। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগ পর্যন্ত লড়াই করতে হয় আয়োজকদের। নিউ নরমাল সময়ে চ্যালেঞ্জটা সেখানে একটু বেশি। এই সংগ্রামের মধ্যেও যে রোমাঞ্চ আছে, সেটা আয়োজকদের কাছাকাছি না থাকলে বোঝা যাবে না। একটা ভালো শুরু দিতে পারলে ভীষণ পরিতৃপ্তি দেয় কর্মকর্তাদের। সেই তৃপ্তির নেশায় প্রাণান্তকর চেষ্টা করে বিসিবি কর্মকর্তারা সব গুছিয়ে নিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু বিপিএল টি২০ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনীর মধ্য দিয়ে আজ তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবেন।

অষ্টম বিপিএলের উদ্বোধনী দিনে দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। উদ্বোধনী ম্যাচ হবে ফরচুন বরিশাল ও চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের মধ্যে। খেলা শুরু দুপুর দেড়টায়। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচ খুলনা টাইগার্স ও মিনিস্টার ঢাকার মধ্যে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। নিউ নরমাল সময়ের এই বিপিএলে অনেক সীমাবদ্ধতা থাকলেও ক্রিকেটীয় আবহে ফিরছে দেশ। সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের মতো ক্রিকেটাররা মিডিয়াকে ইতিবাচকভাবে জিনিসগুলো দেখার অনুরোধ

জানিয়েছেন। বলার অপেক্ষা রাখে না, খেলোয়াড়রা ক্রিকেট উৎসবে উন্মাদনা সৃষ্টি করতে চান। মাঠে দর্শক না থাকলেও টিভির পর্দার দর্শকদের উপহার দিতে চান প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা।

এবারের বিপিএলে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বিদেশি ক্রিকেটার আনা। বিশেষ করে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) খেলা এ মাসের শেষ দিকে হওয়ায় বেশিরভাগ তারকা ক্রিকেটার নাম লিখিয়েছেন সেখানে। ফ্র্যাঞ্চাইজিরা ব্যক্তিগত চেষ্টায় সে বাধাও অতিক্রম করেছে। ক্রিস গেইল, ডোয়াইন ব্রাভো, মঈন আলি, ফাফ ডু প্লেসিস, সুনিল নারিনদের মতো বৈশ্বিক তারকা ক্রিকেটার দলে ভিড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের ছাড়পত্র না দেওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিকে বেশি ঝুঁ?কতে হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের। সব বিদেশি ক্রিকেটার টুর্নামেন্ট শুরুর আগে না পেলেও তারা আসবেন। নূ্যনতম তিনজন বিদেশি ক্রিকেটার নিয়ে আজ মাঠে নামতে হবে কোনো কোনো দলকে। বিসিবিও ফ্র্যাঞ্চাইজিদের বর্তমান বাস্তবতা মেনে শিথিল রেখেছে নিয়ম। এতদিন বায়োসিকিউর বাবলে খেলা হলেও বিপিএল হচ্ছে ম্যানেজমেন্ট ইভেন্ট ইনভায়রনমেন্ট (এমইই) টোকিও অলিম্পিক মডেলে। যেখানে সিমটম থাকলেই কেবল কভিড টেস্ট করা হবে। এমইইকে বায়ো-বাবল বলা না হলেও নিয়ম অনেকটা আগের মতোই। হোটেল থেকে শুরু করে খেলার মাঠে দলগুলোকে থাকতে হচ্ছে নির্দিষ্ট জোনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে।

নতুন করে দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় মাঠে দর্শক রাখা হবে না। তাতে অবশ্য স্টেডিয়াম শূন্য থাকবে না। প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ৩৫টি করে টিকিট দেওয়া হয়েছে নিজস্ব লোকজন নিয়ে খেলা দেখার জন্য। একসঙ্গে ম্যাচের দুই দলের ৭০ জন ভিআইপি স্ট্যান্ডে উপস্থিত থাকতে পারবেন। সেখানেও নিয়মের কড়াকড়ি। ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট দেখিয়ে টিম সমর্থকদের প্রবেশ করতে হবে স্টেডিয়ামে। বিসিবির নির্ধারিত অতিথিরাও খেলা দেখতে পাবেন মাঠে উপস্থিত থেকে। সেদিক থেকে দেখলে একেবারে দর্শকশূন্য মাঠে বিপিএলের খেলা হচ্ছে না। দর্শক ছাড়াও নিউ নরমাল বিপিএলের বড় চ্যালেঞ্জ ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস) রাখা হয়নি। ম্যানুয়েল যুগের মতো খেলা পরিচালনা করতে হবে আম্পায়ারদের। আধুনিক ক্রিকেটে যেটা কল্পনা করা যায় না। ডিআরএস ছাড়া ম্যাচ আম্পায়ারাদের মতো ক্রিকেটাররাও চিন্তা করতে পারেন না। এরপরও বৃহত্তর স্বার্থে ডিআরএস ছাড়াই বিপিএল খেলতে রাজি হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। ডিআরএস না থাকলেও আম্পায়ারদের ওপর আস্থা রাখছেন দেশের বড় তারকারা। প্রযুক্তিগত সুবিধাকে বড় করে না দেখে সাকিব-তামিমরা চান ভালো উইকেটে খেলা হোক। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামেও ব্যাটিং উইকেট চান তারা। কিউরেটর গামিনি ডি সিলভার সঙ্গে কথা বলে ভালো উইকেট চেয়েছেন সিনিয়রদের কেউ কেউ। যদিও মিরপুরে নিখাদ ব্যাটিং উইকেট তৈরি করা কঠিন। মিরপুর ছাড়াও চট্টগ্রাম ও সিলেটে হবে খেলা। ঢাকার পর্ব শেষ করে বন্দরনগরীতে যাবে দলগুলো। সেখানে চার দিন খেলা হয়ে ঢাকায় ফিরবে টুর্নামেন্ট। দ্বিতীয় ধাপে দুই দিন চারটি ম্যাচ খেলে তিন দিনের জন্য সিলেটের অতিথি হবে বিপিএলে। সিলেট পর্ব শেষে টুর্নামেন্টের বাকি খেলা হবে মিরপুরে। ২১ জানুয়ারি শুরু হয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি ফাইনাল খেলা দিয়ে শেষ হবে বিপিএলের অষ্টম আসর। প্রায় এক মাস আট দিনের এই জার্নি সফল করতে সবার সহযোগিতা চায় বিসিবি। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলেন, 'বর্তমান বাস্তবতায় বিপিএলের মতো বড় আসর চালাতে আমরা সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। এজন্য টুর্নামেন্ট সংশ্নিষ্ট সবার সহযোগিতা ছাড়া সেটা সম্ভব হবে না। সব স্টেকহোল্ডার আন্তরিক, আমরা বিশ্বাস করি, বিপিএলে সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারব। ছয় দলের বিপিএলে ডাবল লিগে মোট ৩৪টি ম্যাচ হবে।

মন্তব্য করুন