গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশের এলিট ফোর্স র‌্যাবকে শান্তিরক্ষা মিশনে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে জাতিসংঘে চিঠি দিয়েছে ১২টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। এ বাহিনীর ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে এ দাবি তোলা হলো বলে গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, এ বাহিনীর ওপর 'অবিচার হচ্ছে'।

র‌্যাবকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁ পিয়েরে ল্যাকরুয়াকে চিঠি দিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, এশিয়ান ফেডারেশন অ্যাগেইনস্ট ইনভলান্টারি ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স, এশিয়ান ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ফোরাম-এশিয়া), এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন, এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন, ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট জাস্টিস প্রজেক্ট, সিভিকাস :ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর সিটিজেন পারটিসিপেশন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস, রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটস, দ্য অ্যাডভোকেটস ফর হিউম্যান রাইটস, ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অ্যাগেইনস্ট টর্চার।

এইচআরডব্লিউর বিবৃতিতে বলা হয়, গত বছর ৮ নভেম্বর পাঠানো চিঠিটি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিভাগ। চিঠিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, ২০০৪ সালে র‌্যাব গঠনের শুরু থেকে ২০২১ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত র‌্যাবের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা, নির্যাতন, গুম করার বিস্তর অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে তারা।

তারা বলেছে, ধারাবাহিকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অপরাধ করে এলেও বাংলাদেশ সরকার তাদের পুরস্কৃত করছে ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পাঠাচ্ছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের বিভিন্ন বাহিনীর সাড়ে ৬ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন রয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, ২০১২ সালে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের যে নীতি নিয়েছিল, তা জাতিসংঘ মিশনে আসা বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে না। বাংলাদেশ থেকে আসা র‌্যাব সদস্যদের বিষয়ে কোনো যাচাই না করেই তাদের শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

চিঠিতে জাতিসংঘের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার আগে একটি যাচাই পদ্ধতি চালু করা উচিত যেখানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা, গুম, নির্যাতনের অভিযোগও তদন্ত করে দেখা হবে।

র‌্যাবের সাতজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ তুলে এইচআরডব্লিউ আরও উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশ সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে মানবাধিকার রক্ষাকারী এবং ভুক্তভোগীদের পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিচ্ছে। তাদের হয়রানি করা হচ্ছে।

এ বিবৃতি প্রকাশের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, র‌্যাব যারা তৈরি করেছেন, এখন তারাই একে অপছন্দ করছেন। র‌্যাবের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার করছেন।

র‌্যাবের 'ভালো' কাজের কথা বলা হচ্ছে না- মন্তব্য করে তিনি বলেন, 'র‌্যাব মাদকের বিরুদ্ধে, ভেজাল দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে; জলদস্যুমুক্ত করছে; চরমপন্থিদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাচ্ছে। তারা যে সব সময় জঙ্গি দমন করছে; সন্ত্রাস দমনের জন্য কাজ করছে; সেই কথাগুলো তারা বলছে না।'

গতকাল ডিসি সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধিবেশন শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পুলিশপ্রধান ড. বেনজীর আহমেদ।

র‌্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'তারা নানান ধরনের মানবাধিকারের কথা বলে। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি- এমন কোনো দেশ নেই, যেখানে এনকাউন্টার বা এ ধরনের ঘটনা না ঘটে। পুলিশ বাহিনীর সামনে কেউ যদি অস্ত্র তুলে কথা বলে; পুলিশ বাহিনী তো তখন নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকে না। তখনই ফায়ারিংয়ের ঘটনা ঘটে। এই সবই যদি এলিট ফোর্স র‌্যাবের ঘাড়ে দিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে আমি মনে করি, তাদের প্রতি অবিচার করা হচ্ছে।'





মন্তব্য করুন