ছড়া-কবিতা

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৯      

তু ষা র ক র

বর্ষা



হঠাৎ আকাশ কালো

নিভলো দিনের আলো

বাতাস গেল থেমে

আঁধার এলো নেমে

ফিরছে সবাই ঘরে

রাখাল গেছে চরে

ঝড় হবে যে শুরু

বাজলো গুরুগুরু।



হাটের মানুষ যত

ভাবনা তাদের কত

কাঁধে কলার ঝুড়ি

মাটির হাঁড়িকুড়ি

সওদা আছে ভারে

যাবে যে ওই পারে

নৌকো একা ঘাটে

সূর্য নামে পাটে

বুকটা দুরুদুরু

বাজলো গুরুগুরু।



হাওর জুড়ে ঢেউ

যাবে না আজ কেউ

ঢেউ তুলেছে ফণা

ডুববে শস্যকণা

হাওর মানুষ যারা

সাবধানী খুব তারা

হাঁক ছাড়ছে জোরে

ঘূর্ণি হাওয়া ঘুরে

দৈত্য দেখায় ভুরু

বাজলো গুরুগুরু।



দূর হাওরের বাঁকে

জেলেরা সব থাকে

রুপালি সব মাছ

দেখবে এসো নাচ

মেঘের চিঠি পেলে

ময়ূর পেখম মেলে

দুষ্টু দামাল ছেলে

বৃষ্টি পেয়ে খেলে

কাঁদায় লুটোপুটি

বকের ছোটোছুটি

কচি পাতায় মায়া

আমের বনে ছায়া

বাতাস ঝুরুঝুরু

বাজলো গুরুগুরু।



কেয়ার ফুলগুলি

তাকায় মুখতুলি

মেঘের চুলগুলি

আঁকলো কার তুলি

গানের খাতা খুলি

সকল কাজ ভুলি।



আয় বর্ষা আয়

আমার আঙিনায়

দুলছে তমাল তরু

ঢ্যাম কুড় কুড় কুড়ূ

বর্ষা হলো শুরু

বাজলো গুরুগুরু।



শ ফি ক ই ম তি য়া জ

বাঘা মীর মতিয়ার



বাঘা মীর মতিয়ার রাবারের রাক্ষস

সব পদ দিয়ে তাকে খাবারের, রাখ্‌ খোশ।



ওরে বাপ! ভয়ে বুক শীতলের গোঁফ তার

প্রত্যহ স্বাদ নেয় চিতলের কোপ্তার।

নাশপাতি কমলার সাথে চাই বেরি আর

বরফের কুচি খায় দাঁতে, সাইবেরিয়ার!



খায় মেহমানদের খানা, বর বা কনের;

হা করেই বলে- মুখে ছানা ভর; মাখনের

বাটি আন; গরু আন, জাউ, রুটি, খাশি আর

বাংলার ঝোলাগুড়, পাউরুটি রাশিয়ার।



খেঁজুরের রসে ঘন রাব, বাসমতী আর

সিংহের ঠ্যাঙ চাই, সাব্বাস মতিয়ার!

কাঁঠালের সব খেলি, বিচিটাও খা রোঁয়ার;

রুচি কম? ওর পাতে ঘি ছিটাও সারোয়ার।



প্রকৃতির রূপ খেতে খায়বার ও কাশ্মীর

ডারবান, হনুলুলু যায় বারো মাস মীর

দুধ থেকে তুলে খায় সর হরকিসিমের

ঝোল খায় পটলের, অহর কি শিমের,

কায়রোর টক ঝাল, রাবাতের তিত ক্ষার

মিউজিকরূপে খায় হা-ভাতের চিৎকার!



কিষানের সুর খায়, ধাঙড়ের গান খোর

দুই বেলা স্যুপ খায় হাঙরের কানকোর!

স্বাদ নেয় একটানা চার মাস কাবাবের

আয় বাবা, মানুষের হাড়-মাস খা ভাবের।



সাংহাই, লন্ডন, সানু-সেরা হাভানায়

সেন্দাই, ওরেগনে মানুষেরা যা বানায়;

কুরিতিবা, হংকং, পেনসিলভেনিয়ার

রঙতুলি বা কলম পেন্সিল বেনিয়ার-

সব কিনে চিবে-চুষে মতিয়ার কৃতি বীর

খেতে পারে; কীই বা তাতে লম ক্ষতি আর পৃথিবীর!



অতিকায় হস্তি ও বৃষ খায় বাঘা মীর

চমকাই রূপ দেখে কৃশকায় আগামীর!