পণ্যের ঘাটতি হবে না দামও বাড়বে না

প্রকাশ: ১০ জুন ২০১৪

সমকাল প্রতিবেদক

রমজানে বাড়তি পণ্যের চাহিদা মেটাতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ জন্য তারা পর্যাপ্ত পণ্য মজুদ করেছেন। এতে রমজান মাসে পণ্যের ঘাটতি হবে না। নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদকে এমন আশ্বাস দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এ বৈঠক করেন নিত্যপণ্য আমদানি ও সরবরাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। বৈঠকে সংসদ সদস্য হাজি মোহাম্মদ সেলিম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমদ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল হোসেন মিঞা, টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সারোয়ার জাহান তালুকদার, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, সিটি গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ সাহা, মহানগর কৃষিপণ্য আমদানিকারক সমিতির সভাপতি খন্দকার বাবুলসহ বিভিন্ন গ্রুপ অব কোম্পানির কর্মকর্তা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের পর বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, রমজানে বাজারে নিত্যপণ্য সরবরাহ ঠিক রাখতে ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে পণ্য মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে বেশ কয়েকটি সভা করা হয়েছে। গতকাল বিভিন্ন ব্যবসায়ী গ্রুপের চেয়ারম্যান ও আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠকে হয়েছে। তারা শুধু রমজান মাসে নয়, সারা বছরই নিত্যপণ্যের দাম সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার আশ্বাস দিয়েছেন।
বৈঠকে তোফায়েল আহমেদ বলেন, রমজানে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরবরাহ করা হবে। এখন পণ্যের মজুদ প্রয়োজনের থেকেও বেশি আছে। এ ক্ষেত্রে দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। রমজানে যে কোনোভাবে বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা হবে। তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, দেশের মানুষের চাহিদা খুব বেশি নয়। রমজানে যেন নিত্যপণ্য তাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে।
রমজানে নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট কাটাতে টিসিবিকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরকে নিয়মিত বাজার তদারকি করতে বলেন তিনি। এ ছাড়া নিত্যপণ্য সরবরাহে কোনো ধরনের সমস্যা যাতে না হয় সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও নির্দেশনা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
বৈঠকের বিষয়ে সিটি গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ সাহা সমকালকে বলেন, বন্দর থেকে ভোজ্যতেল খালাসে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত যাতে দ্রুত খালাস করা সম্ভব হয় এ জন্য বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আমদানির সময় ১৫ শতাংশ ভ্যাট, উৎপাদন পর্যায়ে টনপ্রতি ৬১৬ টাকা ভ্যাট ও ৪ শতাংশ অ্যাডভান্সড ট্রেড ভ্যাট দিতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তিন স্তরের ভ্যাট একসঙ্গে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বৈঠকের বিষয়ে বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমদ সমকালকে বলেন, এবার নিত্যপণ্যের মজুদ অনেক ভালো। পাইপলাইনেও পর্যাপ্ত পণ্য আছে। রমজানে পণ্যের দামে কোনো প্রভাব পড়বে না। এ ছাড়াও ব্যবসায়ীরা বন্দরে দ্রুত খালাস এবং সরবরাহ আদেশের জটিলতা নিরসনে যে সহযোগিতা চেয়েছেন সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভ্যাটের বিষয়ে তারা যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জানা যায়, রমজানে আড়াই লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় সোয়া লাখ টন ভোজ্যতেল মজুদ রয়েছে। পাইপলাইনে ও মজুদ মিলিয়ে রমজানে পৌনে ৪ লাখ টন তেল এ সময়ে ব্যবসায়ীদের কাছে থাকবে। এতে ঘাটতির কোনো আশঙ্কা নেই। রমজানে আড়াই লাখ টন চিনির চাহিদা রয়েছে। এখন সরকারি পর্যায়ে সোয়া ২ লাখ টন এবং বেসরকারি পর্যায়ে পৌনে ৫ লাখ টন চিনি মজুদ রয়েছে। এ ছাড়া মসুর ডাল, ছোলা ও খেজুরের চাহিদার চেয়ে বেশি মজুদ রয়েছে।