নতুন রফতানি নীতি শিগগির

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৪      

আবু হেনা মুহিব

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে এবং অভ্যন্তরীণ রফতানিমুখী পণ্যের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে নতুন জাতীয় রফতানি নীতি করা হচ্ছে। এতে প্রধান রফতানি পণ্য পোশাক শিল্পে পশ্চিমা ক্রেতাদের কারখানা পরিদর্শন ও সার্বিক নজরদারির বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য বিদ্যমান রফতানি নীতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
বর্তমান রফতানি নীতির মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছরের জুনে। ওই বছরের জুলাই থেকে পরের তিন বছরের জন্য নতুন নীতি কার্যকর করা হবে। নতুন রফতানি নীতি তৈরির প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। আগামী ১৬ জুলাই সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকের আগে বিদ্যমান নীতির সুবিধা-অসুবিধা এবং নতুন নীতির সংযোজন-বিয়োজন সম্পর্কে মতামত চেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে চিঠি পাঠিয়েছে ইপিবি। বৈঠকে সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন নীতি তৈরির খসড়া তৈরি করা হবে। এ বৈঠকের পর আগামী দেড় মাসের মধ্যে নতুন জাতীয় রফতানি নীতি ঘোষণা করতে কাজ শুরু করেছে ইপিবি। সংশ্লিস্টদের সঙ্গে বৈঠকের পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এসব বৈঠকে শিল্পমন্ত্রণালয়সহ সরকারেরর বিভিন্ন বিভাগ, রফতানিকারক ব্যবসায়ী, ব্যাংক-বীমা, গবেষণা প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে নতুন নীতি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর খসড়া মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। এদিকে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে নতুন নীতিতে বিদ্যমান রফতানি সহায়ক সেবার ওপর ভ্যাট আদায়ের বিদ্যমান নীতি বাতিলসহ ১৫টি প্রস্তাব দেওয়া হবে। প্রধান রফতানি পণ্য হিসেবে পোশাক খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শিল্পের মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানানো হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি আতিকুল ইসলাম। ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে রফতানি আয় আরও বাড়াতে চায় সরকার। রফতানিনির্ভর শিল্পকে অগ্রাধিকার দিতে কাজ করছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডবি্লউটিও) নিয়ম-কানুন এবং বিশ্বায়নের প্রয়োজনের সঙ্গে সংগতি রেখে রফতানি ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী, উদার, শ্রমনির্ভর রফতানি পণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করা, দেশি- বিদেশি উৎস থেকে কাঁচামালের জোগান সহজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার চায় বিজিএমইএ :সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শিল্পের মর্যাদা চাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যমান রফতানি নীতির কিছু ধারা বাতিল, সংশোধন ও নতুন সংযোজন হিসেবে মোট ১৫টি প্রস্তাব দেবে। আগামী দু-একদিনের মধ্যে এসব প্রস্তাব ইপিবিতে পাঠাবে বিজিএমইএ। আতিকুল ইসলাম বলেন, এ খাতের অবদান ছাড়াও ব্যপক সম্ভাবনা বিবেচনায় পোশাক খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। অথচ বিদ্যমান রফতানি নীতিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতের তালিকায় তৈরি পোশাক নেই। বিজিএমইএর অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে এক্সপোর্ট ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের (ইসিজিএস) আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত রফতানি প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
বর্তমান নীতিতে সময়সীমা না থাকায় এ নিয়ে জটিলতা হচ্ছে। রফতানি সহায়তা সেবার ওপর ভ্যাট আদায়ের সিদ্ধান্ত বাতিল করা। এ ছাড়া পোশাক রফতানি পণ্যের মান উন্নয়নে একটি ইনস্টিটিউট করা এবং তুলার দর ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি কটন সিকিউরিটি কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব করবে বিজিএমইএ।