ঈদের আগে নগদ সহায়তা চানপোশাক রফতানিকারকরা

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৪      

সমকাল প্রতিবেদক

ঈদুল ফিতরের আগে ঝুলে থাকা নগদ সহায়তা ছাড় চেয়েছেন পোশাক রফতানিকারকরা। নিট পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএ সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে এ বিষয়ে আবেদন জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে অনেক মালিক বেতন-ভাতার ওপর নির্ভরশীল। এ অবস্থায় তা ছাড় না করা হলে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। অর্থমন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার আগে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে অর্থ বিভাগকে নির্দেশনা দিয়েছেন।
বিকেএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, গত এপ্রিলে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জন্য সর্বশেষ ৬৮৪ কোটি টাকা নগদ সহায়তার অর্থ ছাড় করা হয়। এর মধ্যে বস্ত্র খাত পায় ৫৫৫ কোটি টাকা। কিন্তু ওই সময় বাংলাদেশ ব্যাংকে নগদ সহায়তার জন্য বস্ত্র খাতের রফতানিকারকদের আবেদন ছিল ৮৫০ কোটি টাকা। প্রায় ৩০০ কোটি টাকার তহবিল ঘাটতি থাকার কারণে অনেক উদ্যোক্তাই তখন নগদ সহায়তার অর্থ পাননি। এখন পর্যন্ত চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের নগদ সহায়তার কোনো টাকা ছাড় করা হয়নি। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার মতো বিকল্প নগদ সহায়তার আবেদন জমা আছে। সামনে ঈদ। সাধারণত ঈদের আগেই প্রত্যেক কারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করা হয়। এ সময় শিল্প-মালিকারা বিকল্প নগদ সহায়তার অর্থের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত অর্থবছরের জন্য সব খাতে নগদ সহায়তা খাতে বরাদ্দ করা দুই হাজার ৫৯২ কোটি টাকা এরই মধ্যে ছাড় করা হয়েছে।

এর মধ্যে দেশীয় বস্ত্র খাতে বস্ত্র ও পোশাক খাতে বরাদ্দের এক হাজার ২৭৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশীয় বস্ত্রে ৯৫০ কোটি ১৩ লাখ টাকা, দ্বিতীয় প্রণোদনা খাতে ১৭৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, নতুন বাজার সম্প্রসারণে ১৩৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা এবং উচ্চমূল্যে তুলা আমদানি করে লোকসানে পড়া ব্যবসায়ীদের দেওয়া হয়েছে নয় কোটি ৭৮ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরের বরাদ্দের বেশি অর্থ ছাড় করা হয় না। নতুন একটি অর্থবছর শুরু হয়েছে। এখন সরকারের নির্দেশনা পেলে আবার ছাড় শুরু হবে। প্রসঙ্গত, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ ছাড়ের পর বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মালিকদের হাতে ওই অর্থ পেঁৗছাতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লেগে যায়। ফলে ঈদের অন্তত ২০ দিন আগে অর্থাৎ ১০ জুলাইয়ের মধ্যে নগদ সহায়তার অর্থ ছাড় করার অনুরোধ জানিয়েছে বিকেএমইএ।