এবার কম প্রতিশ্রুতি বিশ্বব্যাংকের

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৪      

জাফর আহমেদ

চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের ঋণ ও অনুদান সহায়তার প্রতিশ্রুতি বড় অঙ্কে কমছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি ১২১ কোটি ডলার কমে যাবে। সব মিলে এবার বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের সঙ্গে ১১টি নতুন প্রকল্পের বিপরীতে ১৫৪ কোটি ২০ লাখ ডলারের ঋণ ও অনুদান সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষর করবে। গত অর্থবছর বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে ২৭৫ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের চুক্তি করেছে। নতুন অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের প্রতিশ্রুতি এভাবে কমে গেলে চলতি অর্থবছরে দাতাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা পূরণ করা সম্ভব হবে না বলে ধারণা করছেন ইআরডির কর্মকর্তারা।
সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংক নতুন অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশকে ১৫৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের ঋণ ও অনুদান সহায়তা দেবে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। ১১টি উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে সংস্থাটি এক বছরে এ পরিমাণ অর্থ সহায়তা দেবে। এর মধ্যে ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার অনুদান সহায়তা হিসেবে এবং বাকি ৫১ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা হিসেবে দেবে সংস্থাটি। ১০ বছরের রেয়াতকালসহ ৪০ বছর মেয়াদে মাত্র দশমিক ৭৫ শতাংশ সুদে এ ঋণ পাওয়া যাবে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে সরকার দাতা দেশ ও সংস্থাগুলোর কাছ থেকে মোট ৬৫০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। সমাপ্ত অর্থবছরে সরকার ৬০০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছিল। শেষ পর্যন্ত ৫৯০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি আদায় করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানা গেছে।
গেল অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত ১১ মাসে দাতারা প্রায় ২৬২ কোটি ডলার ছাড় করেছে। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক এককভাবে সর্বোচ্চ প্রায় ৬০ কোটি ডলার ছাড় করেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪২ কোটি ডলার ছাড় করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। জুন পর্যন্ত পুরো অর্থবছরে ৫৯০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি আদায় হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০০ কোটি ডলারের।
প্রতিশ্রুতির বিষয়ে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব (বিশ্বব্যাংক) আরাস্তু খান সমকালকে জানান, গত অর্থবছর বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে ২৭৫ কোটি ডলারের চুক্তি হয়েছে। তিনি বলেন, আসলে 'হতদরিদ্রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী' নামের আগের বছরের একটি প্রকল্প পরের বছর চুক্তি হওয়ায় বিশ্বব্যাংকের চুক্তির পরিমাণ এত বেড়ে গেছে। চলতি অর্থবছরে ১৫৪ কোটি ডলারের চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও প্রয়োজনে তা বাড়তেও পারে বলে জানান তিনি।
চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যে ১১ প্রকল্পে চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে সেগুলো হলো_ ২০ কোটি ডলারের কন্ডিশনাল ক্যাশ ট্রান্সফার প্রকল্প, ৩৫ কোটি ডলারের মাল্টিপারপাস শেল্টার প্রকল্প, ১৫ কোটি ডলারের ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচার টেকনোলজি প্রজেক্ট (দ্বিতীয় পর্যায়), ২০ কোটি ডলারের চুক্তি হবে নতুন জীবন প্রকল্পের (তৃতীয় পর্যায়), প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ১০ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন প্রকল্পে ১০ কোটি ডলার, ঢাকা বাস র‌্যাপিড ট্রান্সপোর্ট প্রকল্পের জন্য ২৫ কোটি ডলার এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি প্রকল্পের জন্য ১০ কোটি ডলারের চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংক সব ঋণ গ্রহণকারী দেশের জন্য সহায়তা কৌশল নামের একটি দলিল প্রণয়ন করে থাকে। প্রতি তিন বছরের জন্য এ দলিল তৈরি করা হয়। সর্বশেষ ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে বাস্তবায়িত হয়ে আসা দলিলটি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে শেষ হয়ে গেছে। বাংলাদেশের জন্য এখনও নতুন দলিল তৈরি করেনি সংস্থাটি। চলতি অর্থবছরের জন্য বিশ্বব্যাংক বিশেষ পরিকল্পনায় এসব প্রকল্পের বিপরীতে এ সহায়তা দেওয়ার কথা ইআরডিকে জানিয়েছে।