৫ দিন পর পতন থামল

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪

সমকাল প্রতিবেদক

পাঁচ দিন পর গতকাল সোমবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। তবে অপর শেয়ারবাজার সিএসইতে দরহ্রাস পাওয়া শেয়ারের সংখ্যা সামান্য বেশি ছিল। তবে উভয় বাজারে পাঁচ কার্যদিবস পর সূচক বেড়েছে।
দিন শেষে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ডিএসইতে গতকাল ১৫৫ কোম্পানির শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১১৭টি দর হারায়। অপরিবর্তিত ছিল ২৩টির দর। এতে এ বাজারের প্রধান মূল্যসূচক (ডিএসই-এক্স) প্রায় ২৪ পয়েন্ট বেড়ে ৪৫৬৪ পয়েন্টে উঠেছে।
সিএসইতে এদিন ১০২ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১০৬টি দর হারিয়েছে এবং অপরিবর্তিত থেকেছে ১৬টির দর। তার পরও নির্বাচিত খাত মূল্যসূচক ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে ৪৬১৪ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।
শেয়ারদর ওঠা-নামায় কিছুটা ভিন্নতা থাকলে উভয় শেয়ারবাজারে গতকাল শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ কমেছে। দুই শেয়ারবাজার মিলে লেনদেন হয় ৭৫৮ কোটি ২৪ লাখ টাকার, যা রোববারের তুলনায় ৩৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা কম। এর মধ্যে ডিএসইতে ৭০৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং সিএসইতে ৫০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার ও ফান্ড ইউনিট কেনাবেচা হয়েছে।
ডিএসইর খাতওয়ারি লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্যাংক, ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক, সিরামিক্স, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক এবং সেবা ও নির্মাণ খাতের প্রায় সব শেয়ারের দর বেড়েছে। এ ৫ খাতের ৬২ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে মাত্র ৮টির দর কমেছে।
দিনের লেনদেনের শুরু থেকে এসব খাতের শেয়ার দর বেড়ে লেনদেন হয়। তবে শুরুতে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক এবং বীমা খাতের বেশিরভাগ শেয়ার দর হারিয়ে লেনদেন হলেও শেষ পর্যন্ত বিপরীত অবস্থায় লেনদেন শেষ হয়েছে। দিনের লেনদেনের পুরোটা সময়ে ওষুধ ও রসায়ন, বস্ত্র, প্রকৌশল এবং সিমেন্ট খাতের অধিকাংশ শেয়ার দর হারিয়ে কেনাবেচা হয়। মিশ্রাবস্থায় ছিল জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত।
বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমলেও জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ১৬ কোম্পানির গতকাল সর্বাধিক ১১৭ কোটি ৬৯৮ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। খাতওয়ারি লেনদেনে এর পরের অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাতের লেনদেন হওয়া ২৫ কোম্পানির সাড়ে ৯৩ কোটি টাকার, প্রকৌশল খাতের ২৫ কোম্পানির ৮৪ কোটি টাকারও বেশি শেয়ার লেনদেন।
একক কোম্পানি হিসেবে গতকালও বেক্সিমকো লিমিটেডের সর্বাধিক শেয়ার কেনাবেচা হয়। গতকাল এ কোম্পানির ৪৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। লেনদেনের শীর্ষে এর পরের অবস্থানে ছিল মবিল যমুনা অয়েল, বিএসআরএম স্টিল, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট ও স্কয়ার ফার্মা।
একক কোম্পানি হিসেবে গতকাল দরবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, অগি্ন সিস্টেমস, আইসিবি এমপ্লয়ি প্রভিডেন্ড ফান্ড, শমরিতা হাসপাতাল ও ফনিক্স ইন্স্যুরেন্স। এসব শেয়ারের দর পৌনে ৯ শতাংশ থেকে প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এরমধ্যে প্রথম ৪টি দিনের সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়েছে। বিপরীতে লেনদেনের কিছু অংশে মাইডাস ফাইন্যান্স এবং আইএফআইএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড দিনের সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন দরে কেনাবেচা হয়েছে।
এদিকে, গেল অর্থবছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর লেনদেনের প্রথম দিনে গতকাল প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার প্রায় ৩২ শতাংশ দর হারিয়ে ৮৩ টাকা ৭০ পয়সা দরে লেনদেন হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াতেও এ শেয়ারটির দর ৮ শতাংশ কমেছে।