পোশাক খাতে দেশি কাঁচামালের ব্যবহার বেড়েছে

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪

আবু হেনা মুহিব

রফতানিমুখী তৈরি পোশাক উৎপাদনে দেশি সুতা এবং কাপড় ব্যবহার বেড়েছে। গেল অর্থবছরে (২০১৩-১৪) আগের বছরের তুলনায় এ দুই পণ্যের আমদানি কমেছে ২ শতাংশ। এতে প্রায় ৭ কোটি ডলার সমপরিমাণ সাড়ে ৫শ' কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
টেক্সটাইল মিল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ সূত্রমতে, সমাপ্ত অর্থবছরে সুতা আমদানি কমেছে ৪০ লাখ কেজি। এ সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ২৩ কোটি ৬০ লাখ কেজি। আগের অর্থবছরে (২০১২-১৩) এই পরিমাণ ছিল ২৪ কোটি কেজি। অন্যদিকে কাপড় আমদানির পরিমাণ কমেছে প্রায় ৬০ লাখ কেজি। গত অর্থবছরের আমদানি করা হয়েছে ২৮ কোটি ৯০ লাখ কেজি। আগের অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ ছিল ২৯ কোটি ৫০ লাখ কেজি।
বিটিএমএ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলামিন সমকালকে বলেন, তাদের সুতা-কাপড় মানসম্পন্ন। গত অর্থবছর রফতানির পরিমাণ বেড়েছে। উৎপাদনে কাঁচামালের চাহিদাও তাই বেড়েছে। তিনি বলেন, বিশেষায়িত নিটের কাপড় এখনও দেশে উৎপাদিত হয় না। এসব কাপড় চীন, হংকং এবং কোরিয়া থেকে আমদানি করতে হয়। এর বাইরে নিট পণ্যের শতভাগ চাহিদা জোগান দিতে সক্ষম তারা।
বিটিএমএ সূত্রে জানা গেছে, নিট পণ্যের কাপড় উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ এবং ওভেন পণ্যের প্রায় ৪০ শতাংশ কাঁমালের জোগান দেয় দেশি টেক্সটাইল মিলগুলো। চাহিদার বাকি কাঁচামাল প্রধানত চীন এবং ভারত থেকে আমদানি করা হয়। উদ্যোক্তাদের মতে, গ্যাস, বিদ্যুতের অভাব, বছর বছর রাজনৈতিক সংকট এবং ব্যাংক ঋণে উচ্চ সুদের কারণে চাহিদামতো উৎপাদন করতে পারছেন না তারা। তা না হলে ওভেনের চাহিদার একটা বড় অংশ জোগান দেওয়া সম্ভব ছিল। বর্তমানে বিটিএমএর অন্তর্ভুক্ত ৪০২টি স্পিনিং মিল, ৮০৯টি কাপড় তৈরির এবং ২৩৭টি ডাইং এবং প্রিন্টিং কারখানা রয়েছে। সূত্রমতে, বিশেষায়িত নিট পণ্যের আমদানি গত অর্থবছরের তুলনায় আলোচ্য সময়ে বেড়েছে ১০ লাখ কেজি। গত বছরের ৫ কোটি কেজি থেকে ১০ হাজার কেজি বেড়ে মোট আমদানি হয়েছে ৫ কোটি ১০ হাজার কেজি। এসব পণ্য দেশে উৎপাদিত হয় না।
এদিকে বিশ্ববাজারে তুলার দাম কমে যাওয়ার কারণে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন টেক্সটাইল মিল মালিকরা। গত ৩ মাস ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দর কমছে। এ ব্যাপারে বিটিএমএ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলামিন সমকালকে বলেন, সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজার থেকে স্পট প্রাইস (তাৎক্ষণিক দরে) হিসেবে তুলা কিনে থাকেন তারা। এতে তুলা আমদানি করে সুতা কিংবা কাপড় বানানো পর্যন্ত অন্তত ৩ মাস সময় লেগে যায়। এ সময়ের মধ্যে দর ওঠানামা করে। ঠিক এ মুহূর্তে ৩ মাস আগের তুলার দরের তুলনায় আউন্সপ্রতি প্রায় ৮০ সেন্ট দর কমেছে। অথচ বেশি দরে কেনা তুলায় তৈরি স্থানীয় সুতা এবং কাপড়ের দর আন্তর্জাতিক দরের তুলনায় বেশি থাকবে। খুব স্বাভাবিকভাবেই পোশাক উৎপাদনে কম দামে বিদেশি কাঁচামাল ব্যবহার করবেন উদ্যোক্তারা। ফলে দেশি টেক্সাটাইল মিলগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। ২০০৯-১০ অর্থবছরেও একই সমস্যা হয়েছিল। তখন বিশেষ বিবেচনায় প্রণোদনা ঘোষণা করা হলেও সেই অর্থ আজও পাওয়া যায়নি। বিটিএমএ সভাপতি বলেন, এসব বিবেচনায় তারা হেজিং পদ্ধতির (আমদানি তুলার দাম ওঠা-নামা করলে সমন্বয়ের ব্যবস্থা) কথা বলেছেন; কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক শুধুমাত্র কেস টু কেস ভিত্তিতে হেজিং সুবিধা দেয়। এ পদ্ধতি উন্মুক্ত রাখার দাবি তাদের।