পণ্য আনা হয় বন্ড সুবিধায়; কিন্তু বিক্রি করা হয় অবৈধভাবে খোলাবাজারে। চট্টগ্রামে এভাবে গত অর্থবছরে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকার পণ্য এনে ৫৬ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এ রকম ৯২ প্রতিষ্ঠানের নামে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শুল্ক্ক ফাঁকির অভিযোগে মামলা করেছে চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারেট। তবে নিয়মিত তদারকি ও কড়াকড়ি আরোপের কারণে এ ধরনের রাজস্ব ফাঁকি ও মামলা কমে আসছে বলে জানিয়েছেন সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ প্রসঙ্গে কাস্টম ও বন্ড কমিশনারেট চট্টগ্রামের কমিশনার মুহাম্মদ মুবিনুল কবির সমকালকে বলেন, রফতানির শর্তে বন্ড সুবিধায় আনা কাঁচামাল খোলাবাজারে অবৈধভাবে বিক্রি করায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারায়। অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠান শুল্ক্ক পরিশোধ করে এসব কাঁচামাল আমদানি করছে, তারা অসম প্রতিযোগিতায় পড়ে। ফলে বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে। তাই সরেজমিন কারখানা পরিদর্শন, মজুদ যাচাই, মূসক ও ডেলিভারি চালান যাচাইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এতে শুল্ক্ক ফাঁকির হার কমছে। তাছাড়া যারা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গত অর্থবছরে এ রকম সুবিধার অপব্যবহারকারী ৯২ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অনেক মামলা নিষ্পত্তি করে রাজস্বও আদায় করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারেট সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের আগস্ট পর্যন্ত শুল্ক্ক ফাঁকির ১৬ মামলা হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৯২ প্রতিষ্ঠান বন্ড সুবিধায় ১৫৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকার পণ্য আনার পর তা খোলাবাজারে বিক্রি করে ৫৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা শুল্ক্ক ফাঁকি দেয়। বন্ড কমিশনারেট অফিস তদন্ত করে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শুল্ক্ক ফাঁকির মামলা করে। এর মধ্যে ৩১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি মামলাগুলো বিচারাধীন রয়েছে। মামলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ১৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ৫৬ কোটি শুল্ক্ক ফাঁকির মধ্যে আদায় করা হয় ১৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা এবং জরিমানা হিসেবে আদায় করা হয় এক কোটি ১০ লাখ টাকা।
গত অর্থবছরে মামলা হয়েছে এমন প্রতিষ্ঠান হলো- রিগ্যাল পলি প্যাকেজিং, আর এস সোয়েটার, গোল্ডেন সন, সি ব্লু টেক্সটাইল, স্যানম্যান নিট ফেব্রিক্স, হার্বিস কনভার্টিং, ইমাম বাটন ইন্ডাস্ট্রি, ইউনিভোগ গার্মেন্টস, সুপার নিটিং অ্যান্ড ডাইং মিলস, শেং সেং এন্টারপ্রাইজ, রিলায়েন্স ওয়াশিং ইন্ডাস্ট্রিজ, লিবার্টি অ্যাকসেসরিজ (বিডি), ইমতি পলি প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রি, কেডিএস থ্রেড, জয় জয় মিলস (বাংলাদেশ) প্রাইভেট, স্পার্কল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ, ক্যান অ্যাকসেসরিজ ইন্ডাস্ট্রিজ, জেনফোর্ট সুজ (বিডি), টি এইচ পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ, ব্রাইট অ্যাকসেসরিজ ইন্ডাস্ট্রিজ, এমআইপি (বিডি), এমি অ্যাকসেসরিজ (বিডি), এমআইপি (বিডি), হোলি ইলাস্টিক, এভারগ্রিন প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ, জিএবি প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ, সিমস ফ্যাশন, রাস টেক্স ইন্টারন্যাশনাল, যমুনা ইলাস্টিক অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ, সুপারথ্রেড।
এ ছাড়াও রয়েছে- কর্ণফুলী স্টিল মিলস, এস আর প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজেস, ইনটিমেইট অ্যাপারেলস, কেনপার্ক বাংলাদেশ অ্যাপারেলস, বিডি ডিজাইনস, অর্কিড প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ, এইচআরএম অ্যাকসেসরিজ, এমি অ্যাকসেসরিজ (বিডি), প্রো প্যাকেজিং, এইচ টি আমীন অ্যাকসেসরিজ, ভ্যানগার্ড প্যাকেজেস, মেলভিন অ্যাকসেসরিজ, সানরাইজ অ্যাকসেসরিজ, চিটাগাং কার্টনস, ইয়োগোটেক্স ফেব্রিক্স, নিড প্যাকেজিং, চুনজি ইন্ডাস্ট্রিজ, ডেলমাস অ্যাপারেল, প্রিন্টিং প্রো ডিজাইন, নিউ কার্টন প্যাক, লিবার্টি এন্টারপ্রাইজ, হোলি গার্মেন্টস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ, ফারমিন পলি অ্যান্ড প্যাকেজিং, ইয়াচেন টেক্সটাইল করপোরেশন।
তালিকায় আরও রয়েছে- হার্বিস কনভার্টিং, লোটস প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ, ফরচুন প্যাকেজিং, লিগ্যাসি ফ্যাশন, নুরানী ডাইং অ্যান্ড সোয়েটার, হাইস্পিড প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ ইন্ডাস্ট্রিজ, ফারমিন পলি অ্যান্ড প্যাকেজিং, কেবি ইন্টারলাইনিং কোং, ইউজিং ইন্ডাস্ট্রিয়াল, নেসা স্প্রিনার, ব্যান্ডিক্স ক্যাজুয়াল ওয়্যার, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, কোটস বাংলাদেশ, রিলায়েন্স বক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, ভার্চুয়াল টেক্স, স্যামপ্যাক, এম সি এম্বেল ম্যানু ফ্যাকচারিং, কোং, আর এন মিলস, গোল্ডেন সন, ইসলাম প্যাক অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ, ইউনাইটেড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ, জে এস ইন্টারন্যাশনাল, এরিনা কম্পোজিট অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, পালমি সুজ ও জিন চেং সুজ।

মন্তব্য করুন