চট্টগ্রামে ঈদের মৌসুমি মেলা জমজমাট

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০১৮      

স্বপন কুমার মল্লিক, চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ইকবাল হাসানের অনেক দিনের ইচ্ছে বাড়তি কিছু করার। এবার রমজানে ঈদের কেনাকাটার উৎসবকে ঘিরে পোশাকের ব্যবসা করার চিন্তাভাবনা করছিলেন। তবে বড় পুঁজি না থাকায় মার্কেটে দোকান নেওয়ার সক্ষমতা নেই তার। এমন ভাবনার মধ্যেই পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারেন নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে মাসব্যাপী ঈদ পোশাক মেলার আয়োজনের খবর। এতে স্টল নিতে ভাড়াও কম। পুঁজিও সাধ্যের মধ্যে। একটু খোঁজখবর নিয়েই নেমে পড়লেন স্টল দেওয়ার কাজে।

শুধু ইকবাল নন, চট্টগ্রামের এমন আরও অনেক শৌখিন ব্যবসায়ীকে নিয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আয়োজন করেছেন মৌসুমি মেলার। এসব মেলার স্টলগুলোতে হাল আমলের ফ্যাশনের বৈচিত্র্যময় পোশাক কিংবা নিজেদের ডিজাইনের ব্যতিক্রমী পোশাক সাড়াও ফেলেছে ক্রেতাদের মধ্যে।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহাবুবুল আলম এ প্রসঙ্গে সমকালকে বলেন, চট্টগ্রামের মানুষ ব্যবসাপ্রবণ। তারা ব্যবসার কোনো সুযোগকেই হাতছাড়া করতে চান না। তেমনই একটা উদ্যোগ ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন ছোটখাটো মেলার আয়োজন। এর ফলে অনেকেই উপকৃত হচ্ছেন। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা যেমন নিজেদের পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন, তেমনি ক্রেতারাও ঘরের আঙিনাতে পাচ্ছেন নতুন কিছু।

মহানগরীর ঈদগাহ বৌবাজার এলাকার দুলহান কমিউনিটি সেন্টার সাধারণত রমজানে বন্ধ থাকে। বিয়ের অনুষ্ঠান না থাকায় মাসজুড়ে খালিই থাকে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে এলাকার কয়েক তরুণ ভাড়া নেন সেন্টারটি। আয়োজন করেন পোশাক মেলার। ছোট-বড় ২০ স্টলের বিক্রেতাদের বেশিরভাগই শৌখিন। মূলত ঢাকা থেকে কাপড় এনে বিক্রি করছেন তারা।

সরেজমিন দেখা যায়, এখানে চারটি পাঞ্জাবি ও তিনটি মেয়েদের কাপড়ের স্টল রয়েছে। বাকিগুলো টি শার্ট ও শার্ট-প্যান্টের দোকান। কাপড়ের পরিমাণ অল্প হলেও ক্রেতাদের সাড়া পাচ্ছেন বেশ। মেলার অন্যতম উদ্যোক্তা মোহাম্মদ টিপু সুলতান সমকালকে বলেন, মেলা নিয়ে ভালো সাড়া পাওয়ায় এখনই তারা আগামীবারের পরিকল্পনা শুরু করেছেন।

বাংলাদেশ মহিলা সমিতি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বরাবরের মতো মেলার আয়োজন করেছে খাদিবস্ত্র ও কুটির শিল্প মালিক সমিতি। এ ছাড়া এমন মৌসুমি মেলার আয়োজন করেছে অনিন্দ্য। হালিশহর এল ব্লকে পোশাক ও জুয়েলারির মেলার আয়োজন করেছে সংগঠনটি। নগরীর বহদ্দারহাট খাজা রোডে চৌধুরীবাড়ি এলাকায় আরেকটি মেলার আয়োজন করেছেন স্থানীয় সাত ব্যক্তি। অন্যদিকে মিয়াখান নগর বাইদ্যারটেক এলাকায় ঈদ মেলা, ইছানগর এলাকায় পাঞ্জাবি মেলা এবং চকবাজার এলাকার সৈয়দ শাহ রোডে ঈদবস্ত্র মেলার আয়োজন করেছেন স্থানীয়রা। এসব মেলাতেও সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই আছে। তাই খুশি আয়োজকরা।