পাইপলাইনে ৪৪ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি ঋণ

এক বছরে বেড়েছে ৯ বিলিয়ন ডলার

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৮

মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন

রেকর্ড ছাড় হলেও গত অর্থবছর শেষে পাইপলাইনে উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিশ্রুত অর্থের পরিমাণ অনেক বেড়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের শেষ কার্যদিবস ৩০ জুন পাইপলাইনে থাকা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৪ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছর শেষে পাইপলাইনের আকার ছিল ৩৫ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। ফলে এক বছরে বেড়েছে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার। পাইপলাইনে আটকে অর্থের মধ্যে সামান্য কিছু অনুদান আছে। বাকি পুরোটাই বিদেশি ঋণ।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দাতা দেশগুলোর কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে ১৪ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছর শেষে থাকা পাইপলাইনের সঙ্গে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রতিশ্রুত অর্থ যোগ করলে দাতাদের মোট প্রতিশ্রুত অর্থের পরিমাণ ৫০ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার। এদিকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীরা ছাড় করেছে ৬ বিলিয়র ডলার।

জানতে চাইলে ইআরডি সচিব কাজী শফিকুল আযম সমকালকে বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ১১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার ছাড় হয়েছে। রূপপুর প্রকল্প বাদ দিলে পাইপলাইনের আকার এত বেশি হবে না। তিনি বলেন, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড় হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ছাড় হবে ৭ বিলিয়ন ডলার।

ইআরডি সূত্র জানায়, সদ্য সমাপ্ত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চীন থেকে প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে ৪ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে ভারতের কাছ থেকে। এর আগে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোট দাতাদের প্রতিশ্রুতি ছিল ১৭ দশমিক ৯৬ বিলিয়র ডলার। এর মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পেই রাশিয়া ১১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়। রূপপুর প্রকল্পের অর্থায়ন বাদ দিয়ে ওই অর্থবছরে প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ৬ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার।

সংশ্নিষ্টরা জানান, মূলত বাংলাদেশের অনেক বড় প্রকল্পে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়ন পাওয়া গেছে। এ কারণে পাইপলাইনের আকার বেড়েছে। আবার প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা আশানুরূপ না বাড়ায় বিদেশি ঋণের ব্যবহারও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় আসেনি। এ কারণে পাইপলাইনের আকার বেড়েছে। অন্যদিকে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থ ছাড় নিয়ে জটিলতার কারণেও অনেক প্রকল্পে অর্থছাড় বিলম্বিত হচ্ছে।

সাধারণত একটি উন্নয়ন প্রকল্প ৫ বছর ধরে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু এর আগে অর্থায়নের জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে চুক্তি হয়। ঋণ চুক্তি বা অনুদান চুক্তির পরই এ অর্থ ব্যয় করার ক্ষমতা পায় বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো। ঋণ চুক্তির পর ছাড় না হওয়া পর্যন্ত সময়ে প্রতিশ্রুত অর্থকে পাইপলাইনে থাকা বলা হয়। চুক্তির পর থেকেই উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থকে প্রতিশ্রুত অর্থ হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু বাস্তবায়ন সক্ষমতার অভাবে যথাসময়ে বা লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হয় না। এতে প্রতিশ্রুত অর্থের পাইপলাইন বেড়ে যায়।

ইআরডির কর্মকর্তারা আরও জানান, চুক্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নের আশ্বাসকে প্রতিশ্রুতি বলা যাবে না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে চীনের প্রেসিডেন্ট ২১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের ঘোষণা দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত চুক্তি না হওয়ায় একে প্রতিশ্রুতি বলা যাবে না। চীনের ২১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্য থেকে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে ২ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে সম্প্রতি ৫৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার অর্থছাড় হয়েছে।

ভারতীয় এক্সিম ব্যাংকের প্রথম লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) চুক্তির ৯ বছরে ৮৬ কোটি ২০ ডলার ঋণের অর্থছাড় হয়েছে মাত্র ৪০ কোটি ডলার। চুক্তির আড়াই বছরেও ২ বিলিয়ন ডলারের দ্বিতীয় এলওসির কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যায়ে যেতে পারেনি। এ অবস্থায় ভারতের প্রতিশ্রুতির অর্থ দীর্ঘদিন ধরে পাইপলাইনে আটকে রয়েছে। মূলত ভারতের কর্তৃপক্ষের প্রকল্প অনুমোদন জটিলতাই অর্থ আটকে থাকার মূল কারণ।