খেলাপি ঋণ ৬ মাসে বেড়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

ওবায়দুল্লাহ রনি

এককালীন জমা ও মেয়াদের শর্ত শিথিল করে বিশেষ সুবিধায় এখনও অনেক ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরিদর্শনে গিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা আগের মতো গুণগত মানে খুব বেশি ঋণ খেলাপি করছেন না। আদায় জোরদারের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ কমাতে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে পরামর্শ দিচ্ছেন গভর্নর। এমন নানা চেষ্টার পরও খেলাপি ঋণ না কমে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। গত জুন শেষে ব্যাংকগুলোর ৮৯ হাজার ৩৪০ কোটি টাকার ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে, যা মোট ঋণের ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ। খেলাপি ঋণের এ পরিমাণ গত ডিসেম্বরের তুলনায় ১৫ হাজার ৩৭ কোটি টাকা বেশি। আর গত মার্চ বা তিন মাস আগের তুলনায় বেড়েছে ৭৫১ কোটি টাকা।

গত জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ২০১৩ সালে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ব্যবসায়ী ও ব্যাংকারদের দাবির মুখে তখন শিথিল শর্তে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরবর্তী সময়ে আবার ব্যাংক খাতে পাঁচশ' কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে এরকম ১১টি ব্যবসায়ী গ্রুপের ১৫ হাজার ২১৮ কোটি টাকার ঋণে ডাউনপেমেন্টের শর্ত শিথিল, সুদহার কমানো, পরিশোধের মেয়াদ বাড়ানোসহ নানা সুবিধা দিয়ে ২০১৬ সালে পুনর্গঠন করা হয়। এসব ঋণের একটি অংশ আবার খেলাপি হয়ে গেছে। পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠিত এসব ঋণসহ আগামী নির্বাচনের আগে নতুন করে আবার  সুবিধা নেওয়ার জন্য তোড়জোড় চলছে বলে জানা গেছে।

ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির চেয়ারম্যান ও বেসরকারি ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে খেলাপি হওয়াটা অনেকের মধ্যে এক ধরনের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। খেলাপি ঋণ কমাতে হলে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, বিশেষ সুবিধায় পুনর্গঠিত ও পুনঃতফসিল হওয়া ঋণের একটি অংশ আবার খারাপ হয়ে গেছে। নতুন করে অনেক ঋণ খেলাপি হয়েছে। সব মিলিয়ে খেলাপি ঋণ বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৫২১ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বর শেষে ঋণের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৯৮ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা। এ হিসাবে ৬ মাসে ঋণ বেড়েছে ৫৯ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা বা ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অথচ খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৫ হাজার ৩৭ কোটি টাকা বা ২০ দশমিক ২৪ শতাংশ। জুন শেষে রাষ্ট্রীয় মালিকানার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ৪২ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এসব ব্যাংকের মোট ঋণের যা ২৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। গত ডিসেম্বরে তাদের মোট ঋণের ২৬ দশমিক ৫২ শতাংশ ছিল খেলাপি।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৫০১ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে খেলাপি রয়েছে ৬ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। গত ডিসেম্বরে এসব ব্যাংকের ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ ছিল খেলাপি। জুনে বিদেশি ব্যাংকগুলোর ৩৪ হাজার ৮৪ কোটি টাকা ঋণের ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। ছয় মাস আগে এদের খেলাপি ছিল ৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। এছাড়া বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের ২৪ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ২১ দশমিক ৬৮ শতাংশ খেলাপি। ডিসেম্বরে তাদের খেলাপি ছিল ২৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ।