রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে ফোর্সড লোন বাড়ছে। আর এসব লোন সৃষ্টিতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিয়ম মানা হচ্ছে না; যা নিয়ে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংকে ফোর্সড লোন সৃষ্টির ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত সব পর্যায়ের কর্মকর্তার জবাবদিহি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ৫ ব্যাংকের সম্পাদিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান, ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদে নিয়োগ করা পর্যবেক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রমালিকানাধীন পাঁচ ব্যাংকের আর্থিক ও কাঠামোগত উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক এই এমওইউ করেছে। প্রতি তিন মাস পরপর এমওইউর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়ে থাকে।

ওই সভায় জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে নিয়োগ করা বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষক নির্বাহী পরিচালক কাজী ছাইদুর রহমান বলেন, ফোর্সড লোন সৃষ্টির ক্ষেত্রে জনতা ব্যাংক এ সংক্রান্ত নীতিমালা পরিপালন করছে না। বিভিন্ন গ্রাহকের বিপরীতে বড় অঙ্কের ফোর্সড লোন সৃষ্টি করা হলেও জামানত নেওয়া হচ্ছে না; যা ব্যাংকটির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ফোর্সড লোন ঠিকভাবে মনিটর করা হচ্ছে না। সভায় জানানো হয়, আগের বছরের তুলনায় রূপালী ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকেও ফোর্সড লোন বেড়েছে এবং নিয়ম-কানুনের লঙ্ঘনও হয়েছে। এসব শুনে গভর্নর ফজলে কবির উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে ফোর্সড লোন সৃষ্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহির মধ্যে আনার নির্দেশ দেন। সভায় ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ব্যাংকগুলোতে অনিয়ম ও জালজালিয়াতি রোধ করতে হলে ফোর্সড লোন সৃষ্টির বিষয়ে প্রধান কার্যালয়ে যথাযথ মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

আমদানি দায় সময়মতো পরিশোধে ব্যর্থ গ্রাহকের নামে ব্যাংক যে ঋণ সৃষ্টি করে তাকে ফোর্সড লোন বলা হয়। আমদানি এলসি ও ব্যাক টু ব্যাক এলসির যেসব গ্রাহকের বিপরীতে ফান্ডেড (নগদায়ন) সুবিধা নেই, তাদের বেলায় ফোর্সড লোন করা হয়। এ ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম-কানুন নির্ধারিত রয়েছে। রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলো সেই নিয়ম-কানুনের বাইরে গিয়ে ফোর্সড লোন সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফসাইট সুপারভিশন ওই সভাকে জানিয়েছে, পুনঃতফসিল সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন শিথিল করে এসব ব্যাংকে যেসব ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছিল তার অধিকাংশই গত জুন মাসে পুনরায় খেলাপি হয়ে পড়েছে। ব্যাংকগুলো যথাযথ বিচার-বিশ্নেষণ না করে পুনঃতফসিল সুবিধা দিয়েছে। আবার কিছু ব্যবসায়ী, ঋণ পরিশোধ না করা যাদের অভ্যাস (হ্যাবিচুয়াল ডিফল্টার) তাদেরও পুনঃতফসিল সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ব্যাংকগুলো মূলধন সংরক্ষণ, খেলাপি ঋণ কমানো, খেলাপি ও অবলোপন করা ঋণ থেকে নগদ আদায়, কম সুদে আমানত সংগ্রহ, কেন্দ্রীভূত ঋণ কমানো, একক ঋণ গ্রহীতার সীমা রক্ষণ করার যে সমঝোতা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে করেছে তাও রক্ষা করতে পারছে না।

মন্তব্য করুন