সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) পদ্মা সেতু প্রকল্পের বরাদ্দ কমছে প্রায় এক হাজার ৭৩৯ কোটি টাকা। সম্প্রতি সেতু বিভাগ থেকে পরিকল্পনা কমিশনে বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের এডিপিতে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয় চার হাজার ৩৯৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সংশোধিত এডিপিতে সেতু বিভাগ বহুল আলোচিত এ প্রকল্পে দুই হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে। এ পর্যন্ত প্রকল্পে প্রায় ১৭ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ৬২ শতাংশ। এ অবস্থায় বাস্তবায়নের শেষ অর্থবছরে এ প্রকল্পে ব্যয় করতে হবে ১২ হাজার ২৯০ কোটি টাকা।

পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ গত বছর ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। সম্প্রতি প্রকল্পটির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে। নতুন মেয়াদে চলতি বছরের ডিসেম্বরে নির্মাণকাজ শেষ করার নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলতি বছরের এডিপির বরাদ্দ থেকে গত ছয় মাসে, অর্থাৎ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ১০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। হিসাব করে দেখেছে, অর্থবছরের বাকি সময়ে বরাদ্দ থেকে এক হাজার ৭৩৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা অব্যবহূত থেকে যাবে। এ কারণে আরএডিপিতে ওই পরিমাণ বরাদ্দ কমানো হচ্ছে বলে সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা জানান।

২০০৭ সালের জুলাই মাসে হাতে নেওয়া প্রকল্পটির কাজ বিশ্বব্যাংক উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের জন্য দীর্ঘদিন আটকে ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয় ২০১৫ সালে। ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে সোয়া ছয় কিলোমিটারের মূল সেতু ছাড়াও সংযোগ সড়ক ও নদীশাসনের কাজ রয়েছে।

গত মাসে প্রকাশিত বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মূল পদ্মা সেতু নির্মাণে মূল পিয়ার হবে ৪২টি। এখন পর্যন্ত ১৪টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নতুন মেয়াদে সেতু নির্মাণ করতে হলেও এক বছরে বাকি ২৮টি পিয়ারের কাজ শেষ করতে হবে। অন্যদিকে ২৯৪টি পাইলের মধ্যে ২১৭টির কাজ শেষ হয়েছে।

আইএমএইডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী পদ্মা সেতু এলাকায় নদীভাঙন রোধ করতে মাওয়া ও জাজিরা সাইটে ১৩ দশমিক ১ কিলোমিটার নদীশাসন করতে হবে। গত নভেম্বর পর্যন্ত নদীশাসনের কাজ হয়েছে আড়াই কিলোমিটার। ফলে মাওয়া ও জাজিরা সাইটে বাকি ১০ দশমিক ৬ কিলোমিটার নদীশাসনের কাজ শেষ করতে হবে ডিসেম্বরের মধ্যে।

মন্তব্য করুন