চাইলেই আর নতুন শাখা খুলতে পারবে না ব্যাংকগুলো। শাখা খোলার অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকের ক্যামেলস রেটিংয়ের পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদের পরিস্থিতি, নিয়ম-শৃঙ্খলা পরিপালন এবং গ্রাহকসেবার মান বিবেচনায় নেওয়া হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে যথাযথভাবে বিশ্নেষণ করেই ব্যাংকের শাখা খোলার অনুমতি দেওয়া হবে। এসব বিষয় মাথায় রেখে ব্যাংকগুলোর ২০১৯ সালের শাখা সম্প্রসারণের আবেদন পর্যালোচনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সংশ্নিষ্টরা জানান, সাধারণত একটি ব্যাংক বছরে সর্বোচ্চ ১০টি শাখা খোলার অনুমতি পায়। কোন ব্যাংক কত শাখা খুলতে চায় সে বিষয়ে পূর্ববর্তী বছরের নভেম্বর মাসের মধ্যে আবেদন করতে হয়। একটি ব্যাংক কয়টি শাখা খুলতে পারবে প্রথমে সে বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপর কোথায় কোন শাখা খুলবে সে বিষয়ে আলাদাভাবে অনুমতির প্রয়োজন হয়। মূলধন ঘাটতি ও খেলাপি ঋণ অনেক বেশি, লোকসানি শাখার সংখ্যা অস্বাভাবিক এবং আরলি ওয়ার্নিং বা সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের তালিকায় রয়েছে এমন ব্যাংকের নতুন শাখা খোলার অনুমতি সাধারণত দেওয়া হয় না। তবে ধীরে-ধীরে ব্যাংক ও শাখার সংখ্যা অনেক বাড়তে থাকায় এবং নতুন শাখার বেশিরভাগই নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় হওয়ায় নতুন করে আরও  কিছু বিষয় পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, নতুন শাখার বিষয়ে ব্যাংকগুলোর আবেদন যাচাই শুরু হয়েছে। এবার অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বেশি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ ব্যাংকের শাখা দিন দিন বাড়ছে। আবার নতুন যেসব শাখা হচ্ছে তার বেশিরভাগই নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় হচ্ছে। এতে করে বেশি মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার উদ্দেশ্য অনেক ক্ষেত্রে ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকগুলোর বিদ্যমান শাখার বেশিরভাগই বড় শহরে কেন্দ্রীভূত। কিছু ব্যাংক একই এলাকায় খুব কাছাকাছি দূরত্বে একাধিক শাখা খুলছে। অথচ কোনো শাখা নেই এমন এলাকায় যাচ্ছে না। এতে করে অসম প্রতিযোগিতা হচ্ছে।

দীর্ঘ মেয়াদে এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা  দিতে পারে।

জানা গেছে, ব্যাংকের শাখা দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকের গ্রাহকসেবার মান নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কী পরিমাণ অভিযোগ রয়েছে, অনিয়ম মোকাবেলায় ব্যাংকটি কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের মধ্যে বোঝাপড়া কেমন, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নিয়ম প্রভিশন রাখতে পারছে কি-না, পারলেও সেখানে কোনো ঝামেলা আছে কি-না, আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুতের মান কেমন সাধারণত এসব বিষয় দেখা হবে। গ্রাহকের ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লা নোট বদলে দেওয়া বা কয়েন নেওয়ার ক্ষেত্রে গড়িমসি করে কি-না তাও পর্যালোচনার মধ্যে থাকবে। এরপর নতুন শাখা লাভজনক করতে কী ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং আশপাশে যেসব ব্যাংকের শাখা রয়েছে তাদের ব্যবসায়িক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এরপর নতুন শাখার অনুমতি দেওয়া হবে।

ব্যবসায়িক চিন্তা থেকে এক সময় বেসরকারি ব্যাংকগুলো অধিকাংশ শাখা খুলত শহরে। এতে করে শহরকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছিল ব্যাংকের সেবা। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার ফলে এখন গ্রামে একটি শাখার বিপরীতে শহরে একটি শাখা খুলতে হচ্ছে। গ্রাম ও শহরে সমানতালে শাখা খোলার বিধান থেকে শিথিলতা চেয়ে আসছে নতুন ব্যাংকগুলো। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর ১০ হাজারের বেশি শাখা রয়েছে। এসব শাখার প্রায় ৫৭ শতাংশই গ্রামে। সরাসরি শাখার পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিং এবং বুথ ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। এসব মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবার উল্লেখযোগ্য অংশ পাচ্ছেন গ্রামের মানুষ। অবশ্য গ্রামীণ শাখা হিসেবে যেসব শাখা বিবেচিত হয় তার সবই একেবারে গ্রামে তা নয়। মূলত সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার বাইরে হলে সেসব শাখা গ্রামীণ শাখা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

মন্তব্য করুন