সা ক্ষা ৎ কা র

ব্র্যান্ডের স্থানীয়করণে বিশ্বাস করে মাহিন্দ্রা

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

বাণিজ্যিক বাহন, ব্যক্তিগত যানবাহন, ট্রাক ও ট্রাক্টরসহ অন্যান্য সেবা ও পণ্য নিয়ে বাংলাদেশের বাজারে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে ভারতীয় গাড়ি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং আন্তর্জাতিক অপারেশন (দক্ষিণ এশিয়া) বিভাগের প্রধান হিসেবে সঞ্জয় জাদভ সম্প্রতি বাংলাদেশে গাড়ির বাজার ও মাহিন্দ্রার অপারেশন নিয়ে ই-মেইলে

সমকালের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন

সমকাল :ভারতের বিশাল বাজারের তুলনায় বাংলাদেশের বাজার ছোট। বিশেষ কী কারণে মাহিন্দ্রার জন্য এ দেশের বাজার গুরুত্বপূর্ণ?

সঞ্জয় জাদভ :বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশ বাংলাদেশ। এখানে ধারাবাহিকভাবে ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। বাংলাদেশের এই এগিয়ে যাওয়ার গল্পের অংশীদার হতে পেরে মাহিন্দ্রা গর্বিত। ২৫ বছর ধরে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও কৃষি ক্ষেত্রে অবদান রয়েছে মাহিন্দ্রার। বাংলাদেশে মাহিন্দ্রা আটটি ভিন্ন ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে। এর মধ্যে দ্বিচক্রযান, বাণিজ্যিক বাহন, ব্যক্তিগত যানবাহন, ট্রাক ও বাস, ট্রাক্টর উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ মাহিন্দ্রার শীর্ষ তিনটি বিদেশি বাজারের একটি। বর্তমানে বাংলাদেশে মাহিন্দ্রার ৫০ হাজারেরও বেশি গ্রাহক ও অংশীদার রয়েছে। এ দেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণে মাহিন্দ্রা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামী তিন বছরে তিনগুণ গ্রাহক বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে মাহিন্দ্রা।

সমকাল : এ দেশের বাজারে মাহিন্দ্রার সাফল্যের কী কারণ রয়েছে বলে মনে করেন?

সঞ্জয় জাদভ :১৯৯৪ সাল থেকে ভারতে পূর্ণ পরিসরে পণ্য ও সেবা সরবরাহের মাধ্যমে মাহিন্দ্রা বাংলাদেশে তার কার্যক্রম শুরু করে। বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়া, গ্রাহকদের নতুন পণ্যের সম্ভাবনার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে সীমানা অতিক্রম করে যাওয়ায় বিশ্বাস করে মাহিন্দ্রা। এ দেশে যাত্রা শুরুর পর থেকে বিশ্বস্ত অংশীদারদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে আমরা গ্রাহকদের নতুন নতুন সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এরই মধ্যে মাহিন্দ্রা বাংলাদেশের গ্রাহকদের মধ্যে ব্র্যান্ড সচেতনতা তৈরি করতে পেরেছে। ব্র্যান্ডের স্থানীয়করণ এবং গ্রাহককেন্দ্রিক ভাবনার ফলে মাহিন্দ্রা বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

সমকাল :বাংলাদেশের বাজার নতুন কী কী পরিকল্পনা রয়েছে?

সঞ্জয় জাদভ :বাংলাদেশ আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। বিশ্বব্যাপী সুনাম ধরে রাখতে একটি স্থানীয় ব্র্যান্ড হিসেবে বিকশিত করতে চাই। কারণ মাহিদ্রা যেসব দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করে সেসব দেশে ব্র্যান্ডের স্থানীয়করণে বিশ্বাস করে। সেই লক্ষ্যে এক বছর আগে ঢাকায় অফিস নিয়ে কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। অটোমোটিভ খাতে আমাদের মূল পণ্যগুলোর জন্য সম্প্রতি দুটি মুখ্য সিকেডি পল্গ্যান্ট সৃষ্টি করা হয়েছে। আগামী বছরগুলোতে আরও নতুন পণ্য নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।

আমাদের নতুন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর মাশরাফি বিন মুর্তজাকে সঙ্গে নিয়ে 'চলো রে' ক্যাম্পেইন শুরু করার মাধ্যমে বাংলাদেশে আমরা ব্র্যান্ড সম্প্রসারণে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছি।

সমকাল :এ দেশের গ্রাহকদের জন্য এ বছর কোনো নতুন পণ্য আসছে?

সঞ্জয় জাদভ :আমাদের পোর্টফোলিও আরও সমৃদ্ধ করার জন্য বাংলাদেশে অনেক পণ্য ধারাবাহিকভাবে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ব্যক্তিগত বাহন 'মারাজ্জো', যা আরামদায়ক এবং নিরাপদ পথচলা নিশ্চিত করবে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক খান সেগমেন্টে ফুরিও, তিন চাকার বাহন ক্যাটাগরিতে ট্রিও এবং ট্রাক্টর সেগমেন্ট বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সমকাল :বাংলাদেশে মাহিন্দ্রার সেবা কি শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক?

সঞ্জয় জাদভ :সারা দেশে আমাদের ২৬টি বিশেষ ওয়ার্কশপ রয়েছে। মাহিন্দ্রা গাড়ির জন্য ১৫টি অনুমোদিত সার্ভিস স্টেশনের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক আছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন প্রান্তে আমাদের ১৫ জন বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি আছেন। গ্রাহকদের দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সেবা দিতে গত বছর থেকে চালু করা হয়েছে কাস্টমার কেয়ার সেন্টার। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মাহিন্দ্রা কেয়ারে পণ্য ক্রয় ও সেবাসহ অন্য সব ধরনের তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। উন্নত গ্রাহকসেবা, অনুমোদিত বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধির পরামর্শ, সেবামূলক সাক্ষাৎকার, যন্ত্রাংশ সহজলভ্যতা, যন্ত্রাংশের মূল্যসহ যাবতীয় তথ্য এবং জরুরি পরিস্থিতির সেবা দিচ্ছে মাহিন্দ্রা কেয়ার।

সমকাল :মাশরাফিকে অ্যাম্বাসাডর করে ২০১৭ সালের জুনে 'চলো রে' ব্র্যান্ড ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। ক্যাম্পেইনের অগ্রগতি জানতে চাই।

সঞ্জয় জাদভ :'চলো রে' বাংলাদেশের মানুষের উন্নতির স্পিরিট সমৃদ্ধ একটি ক্যাম্পেইন। যার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর বাংলাদেশের অন্যতম আইকন মাশরাফি বিন মুর্তজা। গ্রাহকদের জন্য সেরা মানের পণ্য নিয়ে আসতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। এই ক্যাম্পেইনের অধীনে সলিড পার্টনার হিসেবে আমরা ম্যাক্সিমো এইচডি সিরিজ নিয়ে এসেছি এবং মাত্র ছয় মাসের মধ্যে এর বিক্রি বেড়েছে ৫০ শতাংশ। বাংলাদেশে ব্র্যান্ড সচেতনতা বাড়াতে এবং গ্রাহকদের জন্য উন্নত সেবা নিয়ে আসতে নতুন করে বিনিয়োগের পরিকল্পনাও করছি আমরা।

সমকাল :সারাবিশ্বে মাহিন্দ্রার অবস্থান কী?

সঞ্জয় জাদভ :বতর্মানে মাহিন্দ্রার রাজস্ব আয় ২০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। গ্রামীণ সমৃদ্ধি, শহরের জীবন মানের উন্নতি, ব্যবসায় উদ্যোগে পৃষ্ঠপোষকতা এবং সমাজের মঙ্গলে কাজ করছে মাহিন্দ্রা। মাহিন্দ্রা ভারতের আটোমোটিভ, তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্থিক সেবা খাতে শীর্ষ স্থানে রয়েছে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ট্রাক্টর কোম্পানি। অটোমোটিভের ক্ষেত্রে সারাবিশ্বে মাহিন্দ্রা নিজের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে।