মেয়াদোত্তীর্ণ স্বীকৃত বিল নিয়ে ব্যাংকে আস্থার সংকট

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯     আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

শেখ আবদুল্লাহ

স্থানীয় উৎস থেকে রফতানির জন্য কাঁচামাল আমদানিতে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ঋণপত্র খোলেন ব্যবসায়ীরা। এই ঋণপত্র খোলার সময় আমদানিকারক গ্রাহকের ব্যাংক পণ্য সরবরাহকারী গ্রাহকের ব্যাংককে স্বীকৃতিপত্র দিয়ে থাকে। এই স্বীকৃতির অর্থ হচ্ছে আমদানিকারক সময়মতো পণ্যমূল্য পরিশোধ না করলে, ওই ব্যাংক তার পক্ষে মূল্য পরিশোধ করবে। ব্যাংক লেনদেনে এ স্বীকৃতি ব্যবস্থা এক ধরনের বাধ্যবাধকতাও। কিন্তু গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা না পাওয়ায় দেশের অনেক ব্যাংকই নিজের স্বীকৃতি দেওয়া বিলের অর্থ সময়মতো পরিশোধ করতে পারছে না। বলা যায়, স্থানীয় স্বীকৃত বিল নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে অনেক ব্যাংক।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ অপারেশন ডিপার্টমেন্ট দেশে কার্যরত সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের চিঠি দিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ স্বীকৃত বিল দ্রুত পরিশোধ করার নির্দেশনা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, স্বীকৃত বিল মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ব্যাংকগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। কোনো কোনো ব্যাংককে স্বীকৃত বিল কেন মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে তার কারণ দর্শানোরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অপরিশোধিত স্থানীয় স্বীকৃত বিলের সংখ্যা (মামলাধীন কেস ছাড়া) বৃদ্ধির হার ৫৫ শতাংশ, যা আশঙ্কাজনক এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে দেশের ব্যাংক খাতে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অপরিশোধিত স্থানীয় বিলের সংখ্যা ছিল এক হাজার তিনটি। গত সেপ্টেম্বর শেষে এই বিলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫৬০টিতে। এসব বিলের বিপরীতে প্রায় ৬ কোটি ডলার আটকে আছে। সবচেয়ে বেশি বিল আটকে আছে অগ্রণী ব্যাংকে। এ ব্যাংকে পুরো খাতের মেয়াদোত্তীর্ণ ও অপরিশোধিত স্বীকৃত বিলের ১৬ দশমিক ৪১ শতাংশ আটকে আছে। মেয়াদোত্তীর্ণ বিলের সংখ্যা ২৫৬। এসব বিলের বিপরীতে বিভিন্ন ব্যাংকের পাওনা ৮৯ লাখ ৫৩ হাজার ৩১৫ ডলার। দ্রুত বিল পরিশোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অগ্রণী ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে সময়মতো বিল পরিশোধ না করার কারণে কেন জরিমানা করা হবে না তার কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মাদ শামস উল ইসলাম সমকালকে বলেন, স্বীকৃত বিলের পাওনা বেশিদিন পরিশোধ না করে রাখা যায় না। বিভিন্ন কারণেই স্বীকৃত বিল সময়মতো পরিশোধ সম্ভব হয় না। ফোর্স লোন করে এটা পরিশোধ করা যায়, তবে অগ্রণী ব্যাংক ঋণের কমপ্লায়েন্সের বিষয়ে সতর্ক। যে কারণে সব ক্ষেত্রে ফোর্স লোন করা হয় না। তবে চেষ্টা করা হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ বিলগুলো দ্রুত পরিশোধ করার। এ জন্য সংশ্নিষ্ট শাখা ব্যবস্থাপকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, ব্যাংক কোনো বিলে স্বীকৃতি দেওয়ার আগে কবে নাগাদ গ্রাহক টাকা দিতে পারবে তার একটা হিসাব করে। কিন্তু অনেক সময় মাস্টার এলসির পেমেন্ট যে সময় আসার কথা সেই সময় আসছে না। যে কারণে অনেক ব্যাংকের গ্রাহকরা নির্ধারিত সময়ে অর্থ দিতে পারছেন না। ফলে স্বীকৃত বিল মেয়াদোত্তীর্ণ হচ্ছে।