মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য রফতানিতে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশ সুবিধা বা জিএসপি হারাতে পারে ভারত। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন একটি পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

জিএসপির সঙ্গে সংশ্নিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থাটি জানায়, বেশ কিছু বাণিজ্য ও বিনিয়োগনীতি নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে মতবিরোধ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এমন সিদ্ধান্ত হতে পারে।

জিএসপি স্থগিত করা হলে যুক্তরাষ্ট্রে বিনা শুল্ক্কে ভারতের বছরে পাঁচ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার রফতানি বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। এ খবর ১৯৭৬ সাল থেকে এ সুবিধা পাওয়া প্রতিবেশী দেশটির জন্য হতাশার হলেও তৈরি পোশাক রফতানিতে অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশের জন্য সুখবর। কেননা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা পায় না। তৈরি পোশাকের অন্যতম প্রধান এ বাজারে রফতানি করতে বাংলাদেশের রফতানিকারকদের উচ্চ শুল্ক্ক গুনতে হয়। ভারতীয়দেরও শুল্ক্ক দিতে হলে প্রতিযোগিতামূলক দরে তৈরি পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে এ দেশের রফতানিকারকদের জন্য আরও বেশি অর্ডার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জিএসপির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের (ইউএসটিআর) কার্যালয় ভারতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এ প্রতিষ্ঠান জিএসপি সুবিধাভোগী হিসেবে ভারতের অবস্থান পর্যালোচনা করছে। তারা উভয় দেশের বাণিজ্যবিষয়ক প্যাকেজগুলো নিয়ে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত ইউএসটিআর কর্মকর্তারা এগুলো চূড়ান্ত করতে পারেননি।

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক মাস থেকে ডাটা স্থানীয়করণ ও ই-কমার্স বিষয়ক কিছু পদক্ষেপ নিয়ে রেষারেষি চলছে। মোদি সরকার স্থানীয় কোম্পানির সুরক্ষায় ই-কমার্সের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এতে অ্যামাজন ও ওয়ালমার্টের ব্যবসা খুব একটা বাড়ছে না। এ ছাড়া ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে শুল্ক্ক আরোপের পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে। এ তালিকায় ভারতও রয়েছে। এর অংশ হিসেবে জিএসপি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এমনটি না হলেও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের মধ্যে এফটিএ চালুর প্রস্তাব দেবে।

মন্তব্য করুন