জার্মানির অ্যামবিয়েন্ট প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

আবু হেনা মুহিব, ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে

সন্ধ্যা নামতেই সুনসান ফ্রাঙ্কফুর্টের মেলা প্রাঙ্গণ যেন রূপ নিল ঢাকার গুলিস্তানে। যে যার মতো ছুটছে পঙ্গপালের মতো। সুপরিসর ট্রাম, ট্রেন, বাস- সব পরিবহনে যেন 'ঠাঁই নাই ওরে ঠাঁই নাই'। মানুষের গায়ে-পায়ে মানুষ। পরিচ্ছন্ন পরিকল্পিত নগরী ফ্রাঙ্কফুর্টের খানিকটা এই চিত্রের পেছনে ভোগ্যপণ্যের বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী অ্যামবিয়েন্ট। বিশ্বের সব দেশের উদ্যোক্তা এবং ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিয়েছেন। তাদের ৮৫ ভাগই জার্মানির বাইরে থেকে আসা। এ রকম ধরে নেওয়ার কোনো কারণ নেই, মেলায় শত অংশগ্রহণকারী শুধু খুশিতে ঘুরতে এসেছেন। সবাই পণ্যের মান বর্ণনা, বিপণন নেটওয়ার্ক কিংবা বিক্রয় আদেশে ব্যস্ত। মেসে ফ্রাঙ্কফুর্টের আয়োজনে গত শুক্রবার শুরু হওয়া প্রদর্শনী চলবে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত। বাংলাদেশ থেকে এ বছর ৩৫টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে এতে।

প্রদর্শনীর প্রথম দিনেই বাংলাদেশের প্রত্যেক প্যাভিলিয়নে ক্রেতারা ঢুকেছেন। খুুঁটিয়ে খুঁটিয়ে, উল্টেপাল্টে পণ্য দেখেছেন। বেশ কয়েকটি প্যাভিলিয়নে রফতানি আদেশের প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। পরিমাণ এবং দর নিয়ে দরকষাকষি চলছে। আর্টিসান হাউস বিডির মোতালেব ভূঁইয়া জানালেন, পাটের তৈরি ছাতার শেড, জুতা, ওয়াল ম্যাট- এই তিন পণ্যে জাপানি এক ক্রেতার রফতানি আদেশ গতকালই একরকম চূড়ান্ত হয়েছে। স্মার্ট লেদারের মাসুদা এবারই প্রথম এসেছেন এ প্রদর্শনীতে। জানালেন, দু-একজন ক্রেতা এসেছেন; অবশ্য কোনো ক্রেতার সঙ্গে খুশি হওয়ার মতো কথা হয়নি। তবে অন্যান্য দেশের পণ্যের নকশা, রঙ দেখে বুঝতে পেরেছেন তার পণ্যের কোথায় দুর্বলতা। এ অভিজ্ঞতা তার চোখ-মন খুলে দিয়েছে। দেশে ফিরে নতুনভাবে সাজাবেন উৎপাদন কার্যক্রম। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও প্রায় অভিন্ন কথাই বলেছেন।

ভর্তুকি দিয়ে বাংলাদেশের ১৫টির মতো প্রতিষ্ঠানকে এই প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের প্রচেষ্টায় অংশ নিয়েছে। জার্মানিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর ড. মাসুম আহমেদ চৌধুরী সমকালকে জানিয়েছেন, রফতানি পণ্য এবং বাজারে বৈচিত্র্য আনতে সরকারি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রদর্শনীতে ট্রেন্ড জোন নামে আলাদা আয়োজন আছে। এখানে বিভিন্ন দেশের বাছাই করা উৎকৃষ্ট পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। এসব পণ্য দেখে বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা বিশেষ ধারণা পাচ্ছেন। এছাড়া প্রদর্শনীতে পণ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করছেন। আগামীতে বিশ্বব্যাপী কোন পণ্যের কি ধরনের চাহিদা তৈরি হতে পারে সে বিষয়ে তাঁরা ধারণা দিচ্ছেন। এমনকি রং নির্বাচনে পরিবেশ সম্মত ট্রেন্ড কি হবে, সে বিষয়েও তাদের পরামর্শ রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য এ প্রদর্শনীতে অংগ্রহণকে বিশেষ সুযোগ মনে করা হচ্ছে।