গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হচ্ছে

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে অর্থায়নের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯     আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ২১টি বিশেষ অঙ্গীকার রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো- আমার গ্রাম-আমার শহর, যেখানে প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি ২৮ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এই অঙ্গীকার পূরণে সরকার গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অর্থকরী ফসলের উৎপাদন বাড়ানো হবে। মৎস্য ও গবাদিপশু উৎপাদন বাড়ানো হবে। এসএমই ও অভ্যন্তরীণ শিল্পের সংযোগ খাত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করছে। এ কারণে গ্রামাঞ্চলে ব্যাংকগুলো কোন খাতে কী পরিমাণ অর্থায়ন করেছে, তার বিস্তারিত তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে কোন খাতে অর্থের চাহিদা রয়েছে এবং কোথায় সম্ভাবনা রয়েছে তার তথ্যও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলো যাতে গ্রামীণ অঞ্চলের জন্য উদ্ভাবনী  পণ্য নিয়ে আসে সে বিষয়ে উদ্যোগ নিতে পরামর্শ  দেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তা জানান, জেলা পর্যায় থেকে শুরু করে প্রান্তিক গ্রামাঞ্চলে অর্থ প্রবাহ বাড়ানো সরকারের লক্ষ্য। এ ছাড়া সরকার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষার উন্নত পরিবেশ সৃষ্টি, সুপেয় পানি এবং উন্নতমানের পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। সুস্থ বিনোদন এবং খেলাধুলার জন্য অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। কর্মসংস্থানের জন্য জেলা-উপজেলায় কলকারখানা গড়ে তোলা হবে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার সর্বত্র পৌঁছে যাবে। গ্রাম উন্নত হলে শহরে জনসংখ্যার চাপ কমবে। কর্মসংস্থান বাড়ানো গেলে ধনী-দরিদ্র্য বৈষম্য কমে আসবে।

সূত্র জানায়, অর্থ প্রবাহ বাড়ানোর জন্য ব্যাংক, বীমা, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের গ্রামাঞ্চলে অর্থায়ন ও কার্যক্রম বাড়ানো হবে। এ বিষয়ে একটি ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কৃষি ও পল্লীর কোন খাতে কত পরিমাণ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে এবং কী কী সুবিধা দেওয়া হচ্ছে তার তথ্য সংগ্রহ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবেদন আকারে কৃষিঋণ এবং ব্যাংক ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে বিতরণ করা ক্ষুদ্রঋণ, বর্গাচাষিদের জন্য দেওয়া ঋণ ও ব্যাংকগুলোর গ্রামীণ শাখা কতটা বাড়ানো হয়েছে তার তথ্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে প্রাণিসম্পদ খাতে ঋণ, নারী গ্রহীতাদের পল্লী ও কৃষিঋণ, রেয়াতি সুদ হারের কৃষিঋণ, দারিদ্র্য বিমোচন খাতে ঋণ ও মৎস্য চাষে ঋণসহ বিভিন্ন খাতের বিতরণ করা ঋণের চিত্রও ওই প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সংশ্নিষ্ট খাতগুলোতে অর্থায়নের পরিকল্পনা সাজানো হবে। পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে আনতে নতুন কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হবে। জানা গেছে, এ প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংককে বিশেষভাবে সম্পৃক্ত করা হবে। এ জন্য সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে চলমান কর্মসূচির পাশাপাশি নতুন কী ধরনের কর্মসূচি চালু করলে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানো যাবে, তার পরিকল্পনা করবে অর্থ মন্ত্রণালয়।