নগদ টাকার চাহিদা মেটাতে কলমানিতে ধরনা দিচ্ছে অনেক ব্যাংক। চলতি মাসে আন্তঃব্যাংকে দৈনিক গড়ে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকার কলমানি লেনদেন হচ্ছে। নির্বাচনের আগের কয়েক দিন ছাড়া সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গড়ে ছয় হাজার কোটি টাকার মতো লেনদেন ছিল। নির্বাচনের পর ঋণ চাহিদা বৃদ্ধির তুলনায় সব ব্যাংক সমানভাবে আমানত না পাওয়ায় কলমানির চাহিদা বেড়েছে। এর চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও স্বল্প সময়ের জন্য ধার নিচ্ছে অনেক ব্যাংক।

কলমানিতে লেনদেন বৃদ্ধির পাশাপাশি ভোটের আগে বেড়ে যাওয়া সুদহার আর কমেনি। কয়েক মাসের ধারাবাহিকতায় গত ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত কলমানির গড় সুদহার ৪ শতাংশের নিচে ছিল। ওই দিন গড়ে ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ সুদে সাত হাজার ৯০৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়। পরের দিন গড়ে ৪ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ সুদে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় আট হাজার ৪৯২ কোটি টাকা। ভোটের পরপরই জানুয়ারির শুরুর দিকে সুদহার কমে ৪ শতাংশের নিচে নামে। দৈনিক লেনদেনও কিছুটা কমে আসে। তবে ১৬ জানুয়ারি থেকে আবার ৪ শতাংশের বেশি সুদে লেনদেন হচ্ছে। গত রোববার কলমানিতে গড়ে ৪ দশমিক ১৯ শতাংশ সুদে ছয় হাজার ৯৬১ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, অনেক ব্যাংকে নগদ টাকার সংকট থাকলেও কিছু ব্যাংকের হাতে উদ্বৃত্ত অর্থ রয়েছে। এসব ব্যাংক কলমানিতে টাকা খাটানোর ফলে সামগ্রিক বাজারে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি; বরং এর মধ্যেও অনেক ব্যাংক ৭ ও ১৪ দিন মেয়াদি বাংলাদেশ ব্যাংক বিল ও বিভিন্ন ধরনের সরকারি বিল-বন্ডে টাকা খাটাচ্ছে।

মন্তব্য করুন