সব ধরনের কর কমানোর পক্ষে আইসিএবি

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ব্যক্তি আয়কর এবং করপোরেট করসহ সব ধরনের করহার কমানোর পক্ষে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস, বাংলাদেশ (আইসিএবি)। নিরীক্ষকদের এ সংগঠন মনে করে, উচ্চ হারের কর কাঠামোর কারণে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আকৃষ্ট হচ্ছেন না। প্রতিবেশী দেশগুলোসহ অন্যান্য অনেক দেশে করপোরেট কর বাংলাদেশের তুলনায় কম। এ কারণে বিদেশি উদ্যোক্তাদের কাছে বাংলাদেশের আকর্ষণ কমছে। কয়েক বছর ধরে বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ২ বিলিয়ন ডলারের আশপাশেই আছে।

আগামী অর্থবছরের (২০১৯-২০) বাজেটে করহার কমানোসহ কিছু সুপারিশ করেছে আইসিএবি। গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব সুপারিশ তুলে ধরেন সংস্থার সভাপতি এএফ নেসার উদ্দিন। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) আইসিএবির সুপারিশ লিখিতভাবে জমা দেওয়া হয়েছে।

'আগামী জাতীয় বাজেটে চার্টার্ড অ্যাকাউট্যান্টসদের ভাবনা' শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে রাজস্ব আয় বাড়ানো, এ-সংক্রান্ত আইনের মধ্যে বিরোধ এড়ানো ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং মূলধন পাচার রোধে পদক্ষেপ চেয়েছে আইসিএবি। এতে আরও বক্তব্য দেন আইসিএবির সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবীর ও নির্বাহী সদস্য স্নেহাশীষ বড়ুয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি এনকেএ মুবিন, মো. মনিরুজ্জামান, সাবেক সভাপতি ও কাউন্সিল সদস্য ড. আবু সাঈদ খান, নাছির উদ্দিন আহমেদ, কাউন্সিল সদস্য মোহাম্মদ ফুরকান উদ্দিন, মারিয়া হাওলাদার, রাকেশ সাহা, সচিব মেজর জেনারেল (অব.) মুহাম্মদ ইমরুল কায়েস, পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিকী প্রমুখ।

আইসিএবির কর্মকর্তারা বলেন, করহার কমানো হলে রাজস্ব আয় কম হবে মনে হতে পারে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে রাজস্ব বাড়বে। করপোরেট কর কম হলে বিদেশি উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন। বেশি বিনিয়োগ থেকে বেশি রাজস্ব পাবে সরকার। বেশি বিনিয়োগ থেকে বেশি কর্মসংস্থান হবে। উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে স্থানীয় চাহিদা পূরণ এবং রফতানি বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিতে গতি আসবে। পৃথিবীর সব উন্নত দেশ এভাবেই অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে। আবার কর কম হলে ফাঁকি দেওয়ার পরিবর্তে কর প্রদানে আগ্রহী হবেন করদাতারা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, কর প্রদানেও আছে নানান জটিলতা। কর ভীতির কারণে ফাঁকির প্রবণতা বাড়ছে। ১৬ কোটি মানুষের দেশে এখন মাত্র ১ শতাংশ মানুষ কর দিচ্ছে। আগামী বাজেটে করপোরেট কর ২ শতাংশ কমানোর সুপারিশ করেছে আইসিএবি।

আইসিএবির অন্যান্য সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- করযোগ্য ব্যক্তিদের করের আওতায় আনা, কর প্রদানে সক্ষম ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে গবেষণা ও জরিপ পরিচালনা এবং টিআইএনধারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের করযোগ্য আয়সীমাকে ৩৬ লাখের পরিবর্তে ৫০ লাখ টাকা করা, ভ্যাটের তালিকাভুক্তির সীমা ৩৬ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৮ লাখ টাকায় নির্ধারণ, টার্নওভার করের সীমা ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি ৮০ লাখে উন্নীত করা ইত্যাদি।