বিনা জামানতে ২৪০০০ কোটি টাকার এসএমই ঋণ

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

বিনা জামানতে ঋণ বিতরণ বাড়িয়েছে ব্যাংকগুলো। ২০১৮ সালে জামানত ছাড়া ২৪ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ হয়েছে। এর আগের বছর এমন ঋণের পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ২৬ কোটি টাকা। এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ঋণ বেড়েছে পাঁচ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা বা ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বিনা জামানতের ঋণের পাশাপাশি গত বছর নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণের পরিমাণও বেড়েছে। যদিও এসএমই ঋণের হিসাবায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনায় সামগ্রিকভাবে এ খাতে ঋণ বিতরণ কম দেখা যাচ্ছে।

সাধারণত জামানত ছাড়া কোনো ব্যাংক ঋণ দেয় না। তবে বিশেষ কাজে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসএমই খাতের নতুন উদ্যোক্তাকে জামানত ছাড়া ঋণ দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা রয়েছে। বিনা জামানতে একজন নারী উদ্যোক্তাকে ২৫ লাখ এবং পুরুষ উদ্যোক্তাকে ১০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। এর বাইরে ব্যাংকগুলোও নিজেদের মতো করে ঋণ দিয়ে থাকে। এ ধরনের ঋণ বিতরণে উদ্যোক্তা বাছাইয়ে কিছু শর্ত পরিপালন করতে হয়। বিশেষ করে উদ্যোক্তা যে কাজের জন্য ঋণ নেন, ওই কাজের ওপর সরকারি বা সরকার স্বীকৃত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। ঋণের জন্য ব্যাংকের কাছে গ্রহণযোগ্য কারও ব্যক্তিগত গ্যারান্টি দিতে হবে।

জানতে চাইলে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, জামানত ছাড়া শুধু ব্যক্তিগত গ্যারান্টির বিপরীতে ঋণের আদায় খারাপ নয়। কেননা, সাধারণভাবে যে কাজের জন্য এ ঋণ দেওয়া হয়, পুরোটাই ওই কাজে ব্যবহার হয়। আবার এ ধরনের ঋণের আকার ছোট হওয়ায় ঋণ গ্রহীতাকে সহজে ধরা যায়। ফলে জামানতবিহীন ঋণের আদায় সন্তোষজনক। তবে এ ধরনের ঋণ তদারকিতে বাড়তি জনবল দরকার হয়। যে কারণে অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো বিতরণে অনীহা দেখায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ২০১৮ সালে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এসএমই খাতের ছয় লাখ ৮৭ হাজার ৫২২ উদ্যোক্তার মধ্যে এক লাখ ৫৯ হাজার ৫১০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। আগের বছর সাত লাখ ৪৪ হাজার ৫৪৪ উদ্যোক্তার মধ্যে বিতরণ করা হয় এক লাখ ৬১ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা। এর মানে এসএমই খাতে ঋণ কমেছে দুই হাজার ২৬৭ কোটি টাকা। যদিও প্রকৃতপক্ষে ঋণ কমেনি। বরং গত বছর কটেজ বা অতি ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পের ট্রেডিং উপখাতে বিতরণ করা ঋণ এসএমই হিসেবে বিবেচিত হয়নি। ২০১৭ সালে কটেজ এবং মাঝারি শিল্পের ট্রেডিংয়ে ঋণের পরিমাণ ছিল ২৯ হাজার ১৮১ কোটি টাকা। ফলে এ পরিমাণ ঋণ যোগ করলে এসএমই ঋণ বিতরণ অনেক বেশি হতো। মূলত উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বাড়ানোর লক্ষ্যে হিসাবায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

২০১৮ সালে এসএমই খাতে বিতরণ করা মোট ঋণের মধ্যে এক লাখ ৩৬ হাজার নতুন উদ্যোক্তার মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ২৬ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা। আগের বছর এক লাখ ৪৭ হাজার ৫৬৪ নতুন উদ্যোক্তা পেয়েছিলেন ২৫ হাজার ২২৭ কোটি টাকার ঋণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই বিভাগের সংশ্নিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বাড়লে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, যে কারণে উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বাড়ানোর ওপর সব সময়ই জোর দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে বেশিরভাগ ব্যাংক নির্দেশিত সীমার তুলনায় ট্রেনিংয়ে বেশি ঋণ দেয়। বাড়তি ঝামেলা ছাড়াই এ রকম ঋণ আদায় কার্যক্রম সহজ হলেও এতে কর্মসংস্থানে তেমন প্রভাব পড়ে না।