বাজেটে আদিবাসীদের বরাদ্দ বাড়ানোর সুপারিশ

প্রকাশ: ১৬ মে ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

দেশে সমতলের আদিবাসীর সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। তাদের ৮০ শতাংশ এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ১০ লাখ আদিবাসীর মধ্যে দারিদ্র্যের হার ৬৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সমতলের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ ছিল ২০০ টাকা। কিন্তু বেশিরভাগ আদিবাসী এ বরাদ্দের কথা জানে না। বাজেটে বরাদ্দ বাড়িয়ে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন না করলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জন সম্ভব নয়।

গতকাল ডেইলি স্টার ভবনের মিলনায়তনে 'আদিবাসীদের জন্য সুনির্দিষ্ট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট চাই' শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। কাপেং ফাউন্ডেশন ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এ সভার আয়োজন করে। কাপেং ফাউন্ডেশনের সমন্বয়কারী খোকন সুইটেন মুরমু ও সোহেল হাজং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, আদিবাসীর জন্য বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর বিকল্প নেই। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্য থেকে বের করে নিয়ে আসা এখন প্রধান কর্তব্য। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের চেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে সমতলের আদিবাসীরা।

সভার মূল আলোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, চলতি বছরের বাজেটের হিসাব করলে মাথাপিছু বরাদ্দ ২৭ হাজার টাকা। বলা হচ্ছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার হবে পাঁচ লাখ কোটি টাকার বেশি। এ হিসাবে মাথাপিছু বরাদ্দ দাঁড়াবে ২৯ হাজার টাকা। কিন্তু আদিবাসীরা গড়ের তুলনায় অনেক কম বরাদ্দ পাচ্ছে। ন্যায়সঙ্গত বরাদ্দ পাচ্ছে না পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীরা।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম সভায় সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, চলতি বাজেটে পার্বত্য চট্টগ্রামে যে ১৩শ' কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা অনেক খাতে ব্যবহারের জন্য। আদিবাসী দরিদ্র জনগোষ্ঠী খুবই কম বরাদ্দ পাচ্ছে। তাদের অবস্থার উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যয় তদারকি করতে হবে। সাপ্তাহিকের সম্পাদক গোলাম মোর্তজা বলেন, আদিবাসীদের মূল সমস্যা হলো জমির অধিকার না থাকা। এ সমস্যার সমাধান না করে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ালেও কোনো লাভ হবে না। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, চা বাগানের শ্রমিক, দলিত শ্রেণি, আদিবাসী, পাটকল শ্রমিকের মতো বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমানে পরিবর্তন হচ্ছে না।