সংস্কার তদারকিতে নতুন প্ল্যাটফর্ম

প্রকাশ: ২৩ মে ২০১৯      

আবু হেনা মুহিব

পোশাক খাতের সংস্কারবিষয়ক দুই ক্রেতা জোট ইউরোপের অ্যাকর্ড এবং মার্কিন অ্যালায়েন্সের বদলে গড়ে ওঠা নিরাপনের বিকল্প হিসেবে শক্তিশালী একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হচ্ছে। রেডিমেড গার্মেন্টস সাসটেইনেবিলিটি কাউন্সিল (আরএসসি) নামে নতুন এই প্ল্যাটফর্ম পোশাক খাতের সংস্কারের ধারাবাহিকতা এবং উন্নয়ন তদারক করবে। সরকার, বিদেশি ব্র্যান্ড, ক্রেতা, পোশাক খাতের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ এবং জাতীয়-আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি থাকবেন এতে। সাংগঠনিক কাঠামো এবং কার্যক্রমের রূপরেখা নির্ধারণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।

অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে ওই দুই প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো এবং কার্যক্রম পরিচালনা পদ্ধতি কাজে লাগানো হবে। এ জন্য প্রতিষ্ঠান দুটির বিশেষজ্ঞসহ এ বিষয়ক জনবল থাকবে আরএসসিতে। অ্যাকর্ডের অতিরিক্ত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই দায়িত্ব বুঝে নেবে আরএসসি। গত ৮ মে থেকে অ্যাকর্ডের ২৮১ দিনের শেষ মেয়াদের দিন গণনা শুরু হয়েছে। মেয়াদ শেষে এই জোটে একীভূত হতে সম্মতি দিয়েছে ইউরোপের ক্রেতা জোটটি। এ বিষয়ে নিরাপনের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। অ্যাকর্ড ও নিরাপনের বাইরেও বিশেষজ্ঞ হিসেবে বুয়েটের বেশ কয়েকজন পেশাদার বিশেষজ্ঞ থাকছেন এই প্ল্যাটফর্মে। আরএসসির কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অ্যাকর্ড অফিসে এখন থেকেই বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর আলাদা দুটি ইউনিট কাজ করছে।

পোশাক খাতে জাতীয় পর্যায়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন নিরাপত্তাবিষয়ক মনিটরিং ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি থেকেই আরএসসি গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্নিষ্টরা। এর উদ্দেশ্য, টেকসই তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য নিরাপদ কর্মক্ষেত্র এবং ন্যায্য অনুশীলন। এ জন্য বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-বহির্ভূত পোশাক কারখানাও তদারক করা হবে এই প্ল্যাটফর্মের অধীনে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্য এবং এর বাইরে সব মিলিয়ে পোশাক কারখানার সংখ্যা এখন প্রায় সাত হাজার। তবে নিয়মিত উৎপাদনে থাকা কারখানার সংখ্যা চার হাজারের বেশি নয়। এর আগেও বছর দুয়েক আগে 'সম্মান' নামে এ রকম একটি প্ল্যাটফর্ম গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেটির অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন বর্তমানে বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক। তবে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন কারণে তা গঠন করা সম্ভব হয়নি।

জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি হিসেবে রুবানা হক সমকালকে বলেন, দেশের পোশাক খাতের সংস্কার তদারকির দায়িত্বে থাকবে বিদেশিরা, এটা সম্মানজনক বিষয় নয়। দেশি, সক্ষম এবং গ্রহণযোগ্য একটি তদারক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনেই এটি গঠন করা হচ্ছে। অবশ্য এ রকম একটি সক্ষম প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য বিদেশি ক্রেতাদের অনুরোধ ছিল অনেক দিন ধরেই। তিনি বলেন, স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতার ভিত্তিতে আরএসসিকে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন তারা। দেশের গ্রহণযোগ্য একজন প্রযুক্তিবিদের নেতৃত্বে আরএসসি টিম সাজাতে চান তারা। এই প্রতিষ্ঠানের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকবে না। পোশাক খাত যত দিন থাকবে, তত দিন টিকে থাকবে এ প্ল্যাটফর্ম। অর্থায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশি উদ্যোগে এটি পরিচালিত হবে। এতে অনেক বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে না।

এ প্রসঙ্গে বিকেএমইএর সহসভাপতি ফজলে শামীম এহসান সমকালকে বলেন, সরকার, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর অর্থায়নে চলবে আরএসসি। পরে সম্ভব হলে ক্রেতাদের কাছ থেকে সহযোগিতা নেওয়া হবে। তবে ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্থ পাওয়ার বিষয়ে খুব বেশি আশাবাদী নন তারা। কারণ, সংস্কার ব্যয় এবং নতুন কাঠামোয় মজুরি বৃদ্ধির পরও ক্রেতারা পোশাকের ন্যায্য দর দিচ্ছেন না। সেখানে বাড়তি অর্থ পাওয়া সহজ নয়।