মেয়াদোত্তীর্ণ ২৭২ প্রকল্প নতুন এডিপিতে

প্রকাশ: ২৩ মে ২০১৯      

মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন

আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) মেয়াদ শেষের পথে থাকা ২৭২ প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামী জুনে এসব প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তবে কাজ এখনও অনেক বাকি। মেয়াদ না বাড়ানো পর্যন্ত এগুলোর অনকূলে অর্থছাড় ও ব্যয় করা যাবে না। অন্যদিকে এর মধ্যে ৩৭ প্রকল্পে নামমাত্র এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এতে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন আরও দীর্ঘ হওয়ার সঙ্গে ব্যয় বাড়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলেন, আগামী জুনে মেয়াদ শেষ হওয়া প্রকল্পগুলোর মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া শেষ করতে ৫ থেকে ৬ মাস সময়ের প্রয়োজন হবে। যেসব প্রকল্পের ব্যয় না বাড়িয়ে কেবল মেয়াদ বৃদ্ধি করলেই হবে সেক্ষেত্রে এ সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করা যাবে। কিন্তু অনেক প্রকল্পের মেয়াদের সঙ্গে ডিজাইন, কাজের অঙ্গ এবং ব্যয়ও সংশোধন করতে হবে। নতুন করে সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করতে হবে। এরপর পরিকল্পনা কমিশনের যাচাইয়ের পর তা উপস্থাপন করতে হবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক)। এসব প্রকল্পের ক্ষেত্রে মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় আরও বেশি লাগতে পারে। এমন বাস্তবতা থেকে এগুলো এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পরিকল্পনা বিভাগের সচিব নূরুল আমীন সমকালকে বলেন, গত জাতীয় নির্বাচনের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন কিছুটা ব্যাহত হয়। এছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়ন জটিলতার কারণে বেশ কিছু প্রকল্পে অর্থ ব্যয় করা যায়নি। এতে সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হয়নি প্রকল্পগুলো। এর মধ্যে যেসব প্রকল্প মেয়াদ বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শেষ করে অর্থবছরের মাঝামাঝিতে বাস্তবায়ন কাজ শুরু করতে পারবে, সেগুলোতে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সংশ্নিষ্টরা জানান, বেশিরভাগ উন্নয়ন প্রকল্পই এক মেয়াদে শেষ করা সম্ভব হয় না। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে শেষ হয় না। মূলত বাস্তবায়নকারী বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর বাস্তবায়ন সক্ষমতার অভাবই এর প্রধান কারণ। এছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ, দরপত্র জটিলতার কারণে সময় মতো কাজ শেষ করা যায় না। অনেক প্রকল্প পরিচালক প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রাখতে কাজে নানান গড়িমসি করেন। প্রকল্প থেকে আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার আশায় বছরের পর বছর ধীরগতিতে প্রকল্প এগিয়ে নেন। এসব কারণেই প্রকল্প মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়ে। পরে এডিপিতে এগুলো রাখা না হলে মাঝপথে প্রকল্প থমকে যাবে। এতে সরকারি অর্থের অপচয় বাড়বে।

অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখত বলেন, সক্ষমতার কারণে প্রকল্প সময় মতো শেষ করা যায় না। যে সব প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে না তা অনেক আগেই জানা যায়। এরপরও প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করে না সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো। এতে প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও পিছিয়ে যায়। জনগণও উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হয়।

মেয়াদোত্তীর্ণ এমন প্রকল্পের মধ্যে একটি হলো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণ প্রকল্প। এ প্রকল্পের কাজ চলছে ১৪ বছর ধরে। ২০১০ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বেশ কয়েকবার মেয়াদ বাড়িয়ে সর্বশেষ আগামী জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এখনও পুরুষ ও নারী ব্যারাক, সাক্ষাৎকার ব্লক, পুরুষ ও নারীর জন্য আলাদা বিশ্রামাগার, ভার্চুয়াল কোর্ট নির্মাণের কাজ এখনও অসমাপ্ত। পরিকল্পনা কমিশন চায় আগামী অর্থবছরে প্রকল্পের কাজ শেষ হোক। তবে মেয়াদ বাড়াতেই যদি অনেক সময় চলে যায়, তাহলে শেষ পর্যন্ত কবে শেষ হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকবেই। অন্য আরেকটি প্রকল্প কক্সবাজারে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ উদ্যান নির্মাণ ও খেলার মাঠ উন্নয়ন। এটির মেয়াদ শেষ হয় ২০১৮ সালের জুনে। গত একবছরেও অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। এ কারণে এ প্রকল্পে এক লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১১ সালে। এ প্রকল্পের মেয়াদও কয়েক বছর বাড়ানো হয়েছে। অনুমোদিত মেয়াদ আগামী জুনেও শেষ হচ্ছে না প্রকল্পের কাজ। এই প্রকল্পে এক লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে নতুন এডিপিতে। গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ার কারণে বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন।