রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় ভর্তুকি প্রতিবছরই বাড়ছে

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৯      

মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন

লোকসানের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোতে অনুদান বা ভর্তুকির পরিমাণ প্রতিবছরই বাড়ছে। সাময়িকভাবে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান মুনাফা করলেও পরে আবার লোকসানে পড়ে যাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান বাঁচিয়ে রাখতে বাধ্য হয়ে ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার।

সাময়িক হিসাবে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় সরকার ভর্তুকি দিয়েছে এক হাজার ২৬১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এটি বেড়ে এক হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা হবে বলে অর্থ বিভাগ প্রাক্কলন করেছে। আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে অর্থ বিভাগের এক পর্যালোচনায় এ চিত্র পাওয়া গেছে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মাত্র পাঁচ বছর ব্যবধানে ভর্তুকির পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রাষ্ট্রায়ত্ত এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তুকি দেওয়া হয় ৫৯১ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ছিল যথাক্রমে ৮২৬ কোটি টাকা এবং এক হাজার ১০৯ কোটি টাকা।

সংশোধিত প্রাক্কলন অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৪৮৫ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনে (বিআইডব্লিউটিএ)। গত অর্থবছরে এ প্রতিষ্ঠানকে সরকার ৪১৭ কোটি টাকা দিয়েছিল।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ভর্তুকি বেড়ে দাঁড়াবে ৪১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ৪০৬ কোটি টাকা। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনকে (বিসিক) চলতি অর্থবছরে ২০৮ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হবে, যা গত অর্থবছরে ছিল ১৬৩ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে ৬৩ কোটি টাকা ভর্তুকি দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনে। এর আগের বছরে প্রতিষ্ঠানটিকে দেওয়া হয়েছিল ৭৭ কোটি টাকা।

গতকাল বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর সর্বশেষ পর্যালোচনায় রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর লোকসান কাটিয়ে উঠতে ব্যাপক সংস্কারের সুপারিশ করেছে। গতকাল সংস্থাটির পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সংস্থার সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যার সমাধন ছাড়া সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না। এসব প্রতিষ্ঠানের ভর্তুকি চলতে থাকলে তা সমস্যাকে আরও গভীর করবে। সমস্যা সমাধানে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগে অডিট করতে হবে। পরে সংস্কার করতে হবে। বিজেএমসিকে দিয়ে অডিট ও সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা উচিত।

অর্থ বিভাগের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় মালিকাধীন সংস্থার লোকসান ছিল দুই হাজার ৬০৮ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী নিট লোকসান বেড়ে হয়েছে চার হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। সর্বোচ্চ লোকসানে আছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। এর লোকসান ৯ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বিজেএমসির নিট লোকসান ৬৯৫ কোটি টাকা। গত অর্থবছর প্রতিষ্ঠানটির নিট লোকসানের পরিমাণ ছিল ৪৯৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) নিট লোকসান বেড়ে হয়েছে ৫৯২ কোটি টাকা, যা এর আগের অর্থবছরে ছিল ৩৫১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত তথ্য দিয়ে অর্থ বিভাগ তাদের প্রতিবেদন তৈরি করেছে। ফলে অর্থবছর শেষে লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়তে বা কমতে পারে।