কাঁচাপাট রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

তিন ধরনের কাঁচাপাট রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে সরকার। এগুলো হচ্ছে আন-কাট বা আস্ত কাঁচাপাট, বিটিআর বা বাংলাদেশ তোষা রিজেকশন এবং বিডব্লিউআর বা হোয়াইট রিজেকশন। গতকাল এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। গত বছরের ১৮ জানুয়ারি থেকে এই তিন ধরনের পাট রফতানি নিষিদ্ধ রয়েছে।

জানা গেছে, পাটপণ্যের আন্তর্জাতিক চাহিদা কমে আসায় অনেক মিল অবিক্রীত পাটপণ্য নিয়ে বিপদে রয়েছে। রফতানি কমে আসায় সক্ষমতার তুলনায় উৎপাদন অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে এসব মিল। এ কারণে গত মৌসুমের অবিক্রীত পাটের মজুদ এখনও রয়ে গেছে। নতুন মৌসুমের পাট বাজারে আসতে আর বেশি দিন বাকি নেই। এ অবস্থায় কাঁচাপাট রফতানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে নেওয়া এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোসহ (ইপিবি) সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও বিভাগকে পাঠিয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।

এদিকে বেসরকারি পাটকল মালিকদের সংগঠন বিজেএমএ মনে করে, সরকারের এ সিদ্ধান্তে পাট খাতের সংকট আরও ঘনীভূত হবে। নিম্নমানের পাটের আড়ালে ভালো মানের পাট পাচার হয়ে যাবে। জানতে চাইলে বিজেএমএর সচিব আব্দুল বারেক খান সমকালকে বলেন, মোট কাঁচাপাটের ২ শতাংশের বেশি নয় আনকাট, বিটিআর ও বিডব্লিউআর। অথচ এর আগে দেখা গেছে, রফতানি দেখানো হয় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত। এতে বিপুল পরিমাণে রফতানি আয় থেকে দেশ বঞ্চিত হয়েছে। এ ছাড়া দেশের পাটকলগুলো ভালো মানের পাটের সংকটে ঠিকমতো উৎপাদন চালিয়ে নিতে পারছে না। তিনি জানান, সব ধরনের কাঁচাপাট রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা চান তারা। এ নিয়ে গত এক বছরে তারা কয়েক দফা সরকারকে চিঠি লিখেছেন।

জানা গেছে, আনকাট, বিটিআর ও বিডব্লিউআর এক ধরনের পরিত্যক্ত পাট। ভালো মানের গ্রেড-১ মানের তুলনায় এই তিন ধরনের পাটের দাম এক-তৃতীয়াংশেরও কম। দামের সুবিধা নিতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিম্নমানের পাটের নামে ভালো মানের পাট রফতানি করেন। এতে স্থানীয় মিলগুলো ভালো মানের পাটের সংকটে মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন করতে পারে না। এর আগেও ২০১৫ সালেও একবার সব ধরনের কাঁচাপাট রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তিন মাস পর আবার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

কাঁচাপাট আকারে বছরে ১১ লাখ বেল রফতানির মধ্যে ৮ লাখ বেলই যায় ভারতে। ভারত ছাড়াও পাকিস্তান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে পাট রফতানি হয়ে থাকে।