বেতন কম, যোগ দেননি বেসিক ব্যাংক এমডি

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

সম্মানজনক বেতন প্রস্তাব না করায় বেসিক ব্যাংকের সদ্য নিয়োগ পাওয়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আলম যোগদান করেননি। গতকাল তিনি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে যোগদান না করে ফিরে আসেন। একই সঙ্গে বেতন পুনর্বিবেচনার জন্য ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে আজ বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ জরুরি বোর্ড সভা ডেকেছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন এ মজিদ কোনো মন্তব্য করতে চাননি। সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আলমও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তিনি সমকালকে বলেন, ১০ জুলাই পর্যন্ত যোগদানের সময় রয়েছে। আশা করি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান করব।

গত ২৬ জুন অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আলমকে এমডি হিসেবে নিয়োগের জন্য বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে চিঠি দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। পরের দিন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় তার নিয়োগ অনুমোদন হয়। বেতন ধরা হয় সর্বসাকুল্যে ৩ লাখ টাকা। এর আগের এমডির বেতন ছিল ৪ লাখ টাকা। আগের এমডির বেতনের তুলনায় কম বেতন ধরার কারণ হিসেবে পর্ষদ ব্যাংকের খরচ কমানোর যুক্তি দিয়েছে। ব্যাংকের বর্তমান উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) কনক কুমার পুরকায়স্থের বেতন ৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। বেসিক ব্যাংকের সার্ভিস রুলেই রয়েছে এমডির বেতন ডিএমডির তুলনায় বেশি হবে। এ ছাড়া এই ব্যাংকে তিন মহাব্যবস্থাপক রয়েছেন, যাদের বেতন ৩ লাখ টাকার ওপরে। তিন মহাব্যবস্থাপকের বেতন ৩ লাখ ১৭ হাজার ৩৭০ টাকা করে।

বেসিক ব্যাংকে প্রায় আট মাস ধরে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ খালি ছিল। সর্বশেষ দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন। এরপর এমডি পদে আগ্রহী লোক পাওয়া যাচ্ছিল না। এমডি নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও আবেদন করেননি কেউ। সবশেষে এমডি নিয়োগে একটি সার্চ কমিটি গঠন করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। কমিটি এমডি হিসেবে মাসরুর হুদা সিরাজী, মোহাম্মদ রফিকুল আলম ও জাকির হোসেনের নাম সুপারিশ করে। এর মধ্যে থেকে রফিকুল আলমকে মনোনীত করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

বেসিক ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, খরচ কমানোর অজুহাতে এমডির বেতন কম ধরা হয়েছে। কিন্তু নানা ব্যাংকের অর্থ অপচয় করা হচ্ছে। তারা বলেন, যেখানে বেসিক ব্যাংকে কেউ আসতে চাচ্ছেন না, সেখানে যিনি চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসছেন, তাকে শুরুতেই নিরুৎসাহিত করার মতো পদক্ষেপের পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি-না তা খতিয়ে দেখা দরকার।