সরকারি চাকুরেদের গৃহঋণে যুক্ত হচ্ছে বেসরকারি ব্যাংক

ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকেও ঋণ বিতরণের ভাবনা

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৯

শেখ আবদুল্লাহ

সরকারি কর্মচারীদের নিজস্ব বাড়ি বা ফ্ল্যাটের জন্য ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে কম সুদে গৃহনির্মাণ ঋণ দিচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে নীতিমালা গত বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ঋণ বিতরণে নির্ধারিত সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ব্যাংক ও হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের সহযোগিতার অভাব ও প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে এ কর্মসূচি গতি পাচ্ছে না। মাসের পর মাস লাগছে ঋণের প্রক্রিয়া শেষ হতে। এ অবস্থায় এ কর্মসূচিতে বেসরকারি ব্যাংককে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য সমকালকে বলেন, সরকারি ব্যাংকগুলোর প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে ঋণ বিতরণে দেরি হচ্ছে। এ জন্য বেসরকারি ব্যাংককে এ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন যারা সুদ দেওয়া বা নেওয়া পছন্দ করেন না। তাদের কথা চিন্তা করে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে এ ঋণ বিতরণ করা যায় কি-না তাও ভাবা হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে শিগগিরই একটি সভা ডাকা হবে।

জানা গেছে, এক বছর আগে নীতিমালা হলেও এ পর্যন্ত মাত্র ১৫ জন এ কর্মসূচি থেকে ঋণ পেয়েছেন। আর ৮৫ জনের ঋণ প্রাপ্তি চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এখানে ভর্তুকি দেওয়ার জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, যে গতিতে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম এগোচ্ছে, তার পরিবর্তন না হলে সরকারের দেওয়া বরাদ্দ ব্যয় হবে না।

এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মাদ শামস উল ইসলাম সমকালকে বলেন, ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ব্যাংকের কোনো গাফিলতি নেই। অনেকে আবেদনও করছেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের প্রস্তুতির বিষয় রয়েছে। বাড়ি বা ফ্ল্যাট শুধু স্থায়ী সম্পদ নয়, নিজস্ব জীবনযাপনের বিষয় সম্পৃক্ত। গ্রাহকরা ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলেই আপাতত চাহিদা কম দেখা যাচ্ছে।

বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য আরও জানান, তার পরিচিত একজন কর্মকর্তার কেনা ফ্ল্যাটের সবকিছু ঠিকঠাক আছে কি-না তা পরিদর্শনে ব্যাংকের তিন মাস লেগেছে। আর ব্যাংকের আইনজীবী সংশ্নিষ্ট ফ্ল্যাটের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেছেন দেড় মাসে। এর বাইরেও কিছু বিষয় রয়েছে। যেসব কারণে কাজে গতি পাচ্ছে না। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে অবহিত করা হয়েছে, ব্যাংকের পক্ষ থেকে নতুন বিষয় বলে অভ্যস্ত হতে সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে। অর্থ বিভাগের বাজেট শাখার এক কর্মকর্তা জানান, আট মাস আগে তিনি ফ্ল্যাট কেনার জন্য ঋণ নিতে আবেদন করেছেন। কিন্তু আবেদনটি এখনও ব্যাংকেই পড়ে আছে।

ফ্ল্যাট ও পল্গট কিনতে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত গৃহনির্মাণ ঋণের নীতিমালা জারি হয় গত বছরের ৩০ জুলাই, যা ওই বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়। নীতিমালা অনুযায়ী, জমি বা ফ্ল্যাটের দামের ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন তারা। যে কোনো সরকারি চাকরিজীবী ১০ শতাংশ সুদে এই ঋণ নিতে পারবেন। ২০ বছর মেয়াদি এ ঋণের ৫ শতাংশ সুদ ঋণ গ্রহীতা পরিশোধ করবেন। বাকি ৫ শতাংশ সরকার মাসিক কিস্তিতে ভর্তুকি দেবে।