এক দশকেও পূর্ণাঙ্গ হয়নি আশুগঞ্জ নৌবন্দর

এখনও অর্থছাড় হয়নি, ভূমি অধিগ্রহণ শেষ

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৯      

আনোয়ার হোসেন, আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

এক দশকেও পূর্ণাঙ্গ হয়নি আশুগঞ্জ নৌবন্দর

দুর্বল অবকাঠামোর কারণে আশুগঞ্জের এ বন্দর দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে পণ্য ওঠানামার কাজ চলছে- সমকাল

বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদে ২০০৯ সালে আশুগঞ্জ নৌবন্দরকে 'পোর্ট অব কল' ঘোষণা করা হয়। এই বন্দরকে আধুনিকায়ন ও পুরোপুরি সক্রিয় করার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিয়মিত ট্রানজিট চালু করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে এ বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের কনটেইনার টার্মিনালে (আইসিটি) রূপান্তর করতে ভারতীয় ঋণে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে ভূমি অধিগ্রহণ ও পরামশর্ক নিয়োগে জটিলতা, সময়মতো অর্থ ছাড়সহ নানা সমস্যার কারণে এক দশকেও এ বন্দরের পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি আগে আশুগঞ্জ বন্দর দিয়ে ভারতীয় পণ্য পরিবহনের ট্রানজিট কার্যক্রম অনিয়মিত ছিল। দু'দেশের মধ্যে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে এই বন্দর দিয়ে নিয়মিত ট্রানজিট কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। তবে এর আওতায় খুব কমই ভারতীয় জাহাজ এই বন্দরে ভিড়ছে। এমন বাস্তবতায় আশুগঞ্জ বন্দরের অবকাঠামো কবে নাগাদ পুরোপুরি নির্মাণ শেষ হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে আইসিটি প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বলেছে, ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শিগগির নিয়োগ পাবে পরামর্শক। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, প্রকল্পের সার্বিক মূল্যায়ন শেষ হয়েছে। পরামর্শক নিয়োগ শেষে চলতি বছরের মধ্যে অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হবে।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, নানা সমস্যায় জর্জরিত আশুগঞ্জ বন্দর। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- জেটির স্বল্পতা, বন্দর সংযোগ সড়ক অপ্রশস্ত, ট্রাক টার্মিনালের সংকট ইত্যাদি। এসব কারণে বন্দরে পণ্য লোডিং-আনলোডিং কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

নিয়মিত ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্ট চালুর লক্ষ্যে আশুগঞ্জ নদীবন্দরে আন্তর্জাতিক মানের কনটেইনার টার্মিনাল হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০০৯ সালে। এর এক বছর পর একনেক সভায় ২৪৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। এর মধ্যে ২১৯ কোটি টাকা ভারতের প্রথম লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় ঋণ হিসেবে পাওয়ার কথা ছিল। তবে এখনও অর্থ ছাড় না হওয়ায় প্রকল্পের কার্যক্রম এগোয়নি। আলোচ্য প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক মানের কনটেইনার টার্মিনাল, দুটি জেটি, কাস্টমস অফিস, ক্রেন ও ট্রাকইয়ার্ড, ইলেকট্রিক সাবস্টেশন, সড়ক ও রেলের লিংক রোড, ওয়্যারহাউস ও রেস্ট হাউসসহ প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণ করার কথা।

সূত্র জানায়, আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দক্ষিণে চরচারতলা মৌজার ২৫ একর ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ইতিমধ্যে ভূমি মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান শুরু হয়েছে। জমি অধিগ্রহণে ছয়শ' কোটি টাকার বেশি ব্যয় হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান বলেন, আইসিটি প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ভূমি মালিকদের টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে।

বর্তমানে আশুগঞ্জ নদীবন্দরে প্রতিদিন কমপক্ষে ৭-৮টি দেশীয় জাহাজ পণ্য নিয়ে ভিড়লেও অবকাঠামো দুর্বলতার কারণে দৈনিক একটি জাহাজের মালপত্র আনলোডিং করা যায়। বন্দর ব্যবহারকারীরা বলেছেন, সুযোগ-সুবিধা বাড়ালে এই বন্দর দিয়ে অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহন বাড়বে।

ভূমি মালিক কাজী মহিউদ্দিন মোল্লা, জামাল হোসেন, আবু বকর, জাকির হোসেনসহ অনেকেই বলেন, আশুগঞ্জ বন্দর আধুনিকায়ন হলে স্থানীয় লোকের কর্মসংস্থান হবে। চাঙ্গা হবে অর্থনীতি। ফেরিঘাট পরিবহন ঠিকাদার সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক বলেন, জেটির অভাবে মালপত্র পরিবহনে সময় লাগে বেশি। ফলে ভাড়া দিতে হয় বেশি। বন্দরের প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি। জেলা ট্রাকচালক সমিতির সভাপতি ইদন মিয়া জানান, টার্মিনাল না থাকায় রাস্তার ওপর ট্রাক রাখতে হয়। এতে করে সবাই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।