আরও ১৩ জেলায় কলকারখানা অধিদপ্তরের কার্যালয় হচ্ছে

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

কারখানায় নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি এবং শিল্প খাতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে আরও ১৩ জেলায় নিজস্ব কার্যালয় স্থাপন করতে যাচ্ছে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই)। কার্যালয় স্থাপনের পর সেখানে পরিদর্শক নিয়োগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে শিল্পকারখানায় দুর্ঘটনা এবং নিরাপত্তা ঘাটতি কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

২০১৪ সালের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন পরিদপ্তরকে অধিদপ্তরে উন্নীত করে এর জনবল ৩১৪ থেকে বাড়িয়ে ৯৯৩ জন করা হয়। একই সময়ে প্রধান কার্যালয়সহ ২৩ জেলায় সংস্থার নিজস্ব কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথম পর্যায়ে নয় জেলায় কার্যালয় স্থাপন করা হয়। এখন ১৩ জেলায় কার্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রস্তাবিত প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২২৬ কোটি টাকা। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ডিআইএফই।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাঠানো প্রকল্প প্রস্তাব এরই মধ্যে যাচাই- বাছাইয়ের কাজ শেষ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কমিশনের কর্মকর্তারা।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ১৩ জেলার মধ্যে ছয় জেলায় কার্যালয় নির্মাণ করা হবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব জমিতে। বাকি সাত জেলায় নতুন জমি অধিগ্রহণ করে কার্যালয় নির্মিত হবে। ১৩টি জেলা হলো- চট্টগ্রাম, খুলনা, যশোর, নরসিংদী, টাঙ্গাইল, মুন্সীগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, সিলেট ও দিনাজপুর।

ডিআইএফইর যুগ্ম মহাপরিদর্শক শামসুল আলম খান জানান, নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য শিল্পঘন এলাকায় বিকেন্দ্রীকরণ করা প্রয়োজন। এতে ফলপ্রসূ পরিদর্শন ছাড়াও সময় ও খরচ কমবে। এ ছাড়া নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা যাবে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়বে। শিল্পকারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের পেশাগত দুর্ঘটনা ও রোগ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে করবহির্ভূত রাজস্বও বাড়ানো সম্ভব হবে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, প্রকল্পের আওতায় ২০০৬ সালের শ্রম আইন ও ২০১৫ সালের শ্রম বিধিমালা অনুযায়ী ডিআইএফইয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কারখানার মালিক-শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম  পরিচালনা করা হবে।