যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানিতে সুসময়

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৯

আবু হেনা মুহিব

তিন দশক ধরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র। গত এক দশক ধরে দেশটিতে পোশাক রফতানিতে ওঠানামা চলছে। এক বছর বাড়লে অন্য বছর কমেছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে জার্মানিতে বেশি রফতানি হয় বাংলাদেশের পোশাক। তবে বছর দেড়েক আগে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে শুরু করে। এর প্রভাবে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে (২০১৮-১৯) রফতানি বেড়েছে ১৫ শতাংশ। এর সুবাদে বড় ব্যবধানে জার্মানিকে টপকে যুক্তরাষ্ট্র এখন আবার বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার।

গত অর্থবছরে মোট পণ্য রফতানির তুলনায় পোশাক রফতানিতে প্রবৃদ্ধি বেশি। সব পণ্যের রফতানি বেশি হয়েছে ১১ শতাংশ। তৈরি পোশাকের বেশি হয়েছে ১১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। আর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাকের রফতানি বেড়েছে ১৫ শতাংশ। এ সময় রফতানি হয়েছে চার হাজার ৩৪ কোটি ডলারের পণ্য। এর মধ্যে পোশাক রফতানির পরিমাণ তিন হাজার ৬১ কোটি ডলার।

উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধান তিনটি কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানিতে গতি দেখা গিয়েছে। বাংলাদেশের পোশাক খাতের সংস্কারবিষয়ক দুই ক্রেতা জোট ইউরোপের অ্যাকর্ড এবং উত্তর আমেরিকার অ্যালায়েন্সের তত্ত্বাবধানে সংস্কারের প্রভাব রয়েছে। দ্বিতীয়ত, গত এক বছর ধরে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিরোধ চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশে চীনা পণ্যে এখন ২৫ শতাংশ শুল্ক্ক গুনতে হয়। আগে এই হার ছিল ১০ শতাংশ। তৃতীয় বড় কারণ হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অবাধ বাণিজ্যবিষয়ক ট্রান্সপ্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তি শেষ পর্যন্ত বাতিল হওয়া। এই চুক্তি হলে ভিয়েতনামের পোশাক যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্ক্ক ছাড়াই রফতানি হবে। ওবামা প্রশাসনের সময় টিপিপি প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে আসার পর ক্রেতারা ভিয়েতনামমুখী হয়ে ওঠেন। অনেক ব্র্যান্ড এবং ক্রেতা দেশটিতে নতুন করে বিনিয়োগও শুরু করেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শপথ নিয়েই টিপিপি বাতিলের ঘোষণা দেন। ক্রেতারা আবার বাংলাদেশের দিকে মনোযোগী হয়েছেন।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো-ইপিবি এবং বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, সমাপ্ত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৬১৩ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের (২০১৭-১৮) তুলনায় বেশি হয়েছে ৭৮ কোটি ডলার। ওই অর্থবছরে পোশাক রফতানির পরিমাণ ছিল ৫৩৫ কোটি ডলার। মোট পোশাক রফতানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ এখন প্রায় ১৯ শতাংশ। অবশ্য এক সময় এ হার ছিল ৩০ শতাংশ। তখন অন্যান্য দেশে রফতানি অনেক কম ছিল।

জার্মানির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রফতানির তুলনা করলে দেখা যায়, জার্মানিতে গত অর্থবছরে মোট ৫৮৪ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে। এর আগের অর্থবছরে যার পরিমাণ ছিল ৫৫৮ কোটি ডলার।

জানতে চাইলে বিজিএমইএর সহসভাপতি মশিউল আলম সজল গতকাল সমকালকে বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের বাংলাদেশের প্রতি আস্থা কমে যায়। তবে অ্যাকর্ড এবং অ্যালায়েন্সের তত্ত্বাবধানে ব্যাপক সংস্কারের দৃশ্যমান অগ্রগতি সারাবিশ দেখেছে। উদ্যোক্তাদের সক্ষমতার বিষয়টি এখন প্রমাণিত। এর ফলে ক্রেতাদের আস্থা ফিরেছে। এ ছাড়া চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক্ক লড়াইটাও বাংলাদেশের অনুকূলে গেছে।