সবাই আমানত ফেরত পাবেন

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ার কারণে আমানতকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমানতের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির সম্পদের পরিমাণ বেশি থাকায় পর্যায়ক্রমে সবার আমানত ফেরত দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে এমন আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যদিও পিপলস লিজিংয়ের অর্থ ফেরত প্রক্রিয়া পুরোপুরি আদালতের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম এবং আরেক নির্বাহী পরিচালক মো. শাহ আলম। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তারা। এর আগে গত সোমবার পিপলস লিজিং বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এতে গ্রাহকরা ঢাকার গুলশান ও চট্টগ্রাম শাখায় টাকা তুলতে ভিড় করেন। গতকাল বুধবার প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে এমডিসহ দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি।

পিপলস লিজিংয়ের অবসায়নের কারণ ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে সরাজুল ইসলাম বলেন, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক পিপলস লিজিংয়ের ওপর একটি বিশেষ পরিদর্শন পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের নামে-বেনামে ঋণ জালিয়াতির প্রমাণ পায়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আনে। কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পরও আর্থিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত মে মাসে পিপলস লিজিংয়ের অবসায়নের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়ার পর বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে অবসায়নের লক্ষ্যে একজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

পিপলস লিজিং ছাড়াও কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান আমানতকারীদের অর্থ ঠিকমতো ফেরত দিতে পারছে না। এখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো ব্যর্থতা আছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে মো. শাহ আলম বলেন, তারল্য সংকটের কারণে সাময়িক অসুবিধা হতে পারে। তবে অর্থ ফেরত দিতে পারছে না- এমন তথ্য তাদের কাছে নেই। পিপলস লিজিং ছাড়া এই মুহূর্তে দেশের অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেই।'

আমানতকারীদের অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে যাতে কোনো আতঙ্ক সৃষ্টি না হয় সে জন্যই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে উল্লেখ করে সিরাজুল ইসলাম বলেন, পিপলস লিজিংয়ে বর্তমানে আমানতকারীদের দুই হাজার ৩৬ কোটি ২২ লাখ টাকা জমা রয়েছে। অন্যদিকে সম্পদ রয়েছে তিন হাজার ২৩৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকার। ফলে পাওনা ফেরত দেওয়া সম্ভব হবে। প্রতিষ্ঠানটির অবনতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে সেই প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, বিতরণ করা ঋণ আদায় এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যা করা দরকার এরই মধ্যে করা হয়েছে।

এদিকে সমকালের চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, দেউলিয়া হয়ে পড়া পিপলস লিজিং নিয়ে উদ্বিগ্ন চট্টগ্রামের বিনিয়োগকারীরা। দু'দিন ধরে আখতারুজ্জামান সেন্টারে থাকা প্রতিষ্ঠানটির চট্টগ্রাম শাখায় ভিড় করছেন শতাধিক বিনিয়োগকারী। তারা বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত চান। চট্টগ্রামের এ শাখায় দেড় শতাধিক বিনিয়োগকারীর শত কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ রয়েছে। জমানো টাকা ফেরত দিতে না পারায় শাখা প্রধান কামরুল হাসানের সঙ্গে অনেকের বাকবিতণ্ডা হয়েছে।