শাখা বন্ধ রেখে আন্দোলনে কর্মীরা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৯      

শেখ আবদুল্লাহ

শাখা বন্ধ রেখে আন্দোলনে নেমেছেন পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মীরা। ফলে অতি দরিদ্রদের অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন নিয়ে সরকারি উদ্যোগে গড়ে তোলা পল্লী সঞ্চয় কার্যক্রম থমকে গেছে। কর্মকর্তা পর্যায়ে পদ শূন্য থাকা, চাকরি স্থায়ী করার জন্য আন্দোলন, কর্মবিরতিসহ বিভিন্ন কারণে বিশেষায়িত এ ব্যাংকের শৃঙ্খলা ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় না হওয়ায় এ পরিস্থিতি

সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, ব্যাংকটির ১৬৬টি শাখার কর্মকর্তারা কাজে যোগ না দিয়ে অফিস বন্ধ রেখেছেন। গত সোমবার বিভিন্ন শাখার কর্মীরা মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘটসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন। এতে ব্যাংকের বিপুলসংখ্যক গ্রাহক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ রকম অবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশের সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে যে সব কর্মী অফিসের কাজে যোগ না দিয়ে আন্দোলন করছেন তাদের তালিকা চেয়েছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আকবর হোসেন।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার চিঠিতে বলেছেন, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মচারীদের একটি অংশ গত ৬ জুলাই থেকে ঢাকায় অবস্থান করে চাকরি স্থায়ী করাসহ বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন করছেন। চাকরির সুযোগ-সুবিধার দাবিতে বৈধ দাপ্তরিক পদ্ধতি অনুসরণ না করে হঠাৎ এ ধরনের আন্দোলন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে অফিস শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে। আন্দোলনের কারণে ৮ জুলাই সারাদেশে ১৬৬ উপজেলায় ব্যাংকের শাখা খোলা হয়নি। এতে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থা চলতে দেওয়া সমীচীন হবে না। আমার বাড়ি আমার প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মচারীদের কেউ অফিসে অনুপস্থিত থাকলে

তাদের নাম-পদবি জরুরিভিত্তিতে জানাতে

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

এদিকে ঢাকার ইস্কাটনে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক বিজ্ঞপ্তিতে যে সব কর্মচারী অফিসে অনুপস্থিত থাকবেন তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের ৫ হাজার ৩৬৮ জন কর্মচারীর মধ্যে ৪ হাজার ৭৫৬ জনকে ইতিমধ্যে ব্যাংকের বিভিন্ন সমমানের পদে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদের ইনক্রিমেন্ট মঞ্জুর করা হয়েছে। এসব কর্মচারীর একটি পদোন্নতি নীতিমালা করা হয়েছে, যা সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায়। নীতিমালা অনুমোদন হলে পদোন্নতি শুরু হবে। ফলে এ ধরনের আন্দোলনের কোনো প্রয়োজন নেই।

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কয়েকশ' কর্মী কয়েকদিন ইস্কাটনে প্রধান কার্যালয়ের সামনে ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করছেন। চাকরি স্থায়ী করা, পদোন্নতি ও সরাসরি নিয়োগ বন্ধের দাবিতে আন্দোলন করছেন তারা। কয়েকজন কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সরাসরি নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি প্রকল্পের কর্মীদের স্থায়ী করা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পরিবর্তে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প চালু করে। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর আবার চালু হয় এ প্রকল্প। প্রকল্পটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ২০১৪ সালে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আইন করা হয়। ওই বছরের ৮ জুলাই গেজেটের মাধ্যমে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে সরকার। ওই আইনের ৩৯ ধারায় বলা হয়, ২০১৬ সালের ৩০ জুনের পর 'একটি বাড়ি একটি খামার' প্রকল্প বিলুপ্ত হবে। বিলুপ্ত প্রকল্পের সব সম্পদ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, অর্থ, কর্মসূচি এবং দায় পলল্গী সঞ্চয় ব্যাংকের হাতে ন্যস্ত হবে। ২০১৬ সালের ২২ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একযোগে পলল্গী সঞ্চয় ব্যাংকের ১০০টি শাখার উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমে বিশেষায়িত এ ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক যাত্রা হয়। কিন্তু এ যাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়ান একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা প্রকল্পটি চালিয়ে যাওয়ার দাবিতে আন্দোলনে নামেন। সবশেষে সরকার 'পলল্গী সঞ্চয় ব্যাংক (সংশোধন) বিল-২০১৬' সংসদে তোলে। এতে প্রকল্পের মেয়াদ চার বছর বাড়িয়ে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প (বর্তমানে আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প) এবং পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কাজ পাশাপাশি চালিয়ে যাওয়ার ওপর মত দেয় সংসদ।