প্রাণের হবিগঞ্জ পার্কে ২০ হাজার কর্মসংস্থান

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৯      

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রাণের হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে পাঁচ বছরে ২০ হাজার কর্মসংস্থান হয়েছে। এ কারখানায় কর্মরতদের ৮০ শতাংশ স্থানীয়। শুধু কাজের ব্যবস্থা নয়, এখানে তৈরি পণ্য রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রাও আয় হচ্ছে। এ কারখানায় উৎপাদিত পণ্য যাচ্ছে ১৪১টি দেশে।

গতকাল বৃহস্পতিবার এ শিল্প পার্কের পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল এসব তথ্য জানান।

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল ২০১৪ সালে হবিগঞ্জের ওলিপুরে ২১৭ একর জায়গায় এ পার্ক গড়ে তোলে। এখানকার কারখানায় ফ্রুট ড্রিংক, বেভারেজ, ক্যান্ডি, লিকুইড গ্লুকোজ, বিস্কুট, কনফেকশনারি, ইলেকট্রিক কেবলস, ফ্যান, মেলামাইন, বাইসাইকেল, এমএস ও জিআই পাইপ, টয়লেট্রিজসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন হয়।

সভায় কামাল আরও বলেন, কারখানা স্থাপনের

পর থেকে মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে তাদের কোম্পানি। তিনি

বলেন, এ পার্কে বর্তমানে চারটি ইটিপি রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৬৬ লাখ লিটার তরল বর্জ্য পরিশোধন করা সম্ভব। বর্তমানে কারখানায় প্রতিদিন প্রায় গড়ে ৪৫ লাখ লিটার তরল বর্জ্য উৎপাদিত হয়। লিকুইড বর্জ্য ইটিপির মাধ্যমে পরিশোধন করা হয় এবং সলিড বর্জ্য দিয়ে জৈব সার তৈরি করা হয়।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় সব ছাড়পত্র নিয়ে কার্যক্রম চলছে পার্কে। এ ছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্নিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা নিয়মিত কারখানা পরিদর্শনের মাধ্যমে পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয় তদারকি করেন। পরিবেশ সুরক্ষায় সংশ্নিষ্ট সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, খালের উজান থেকে নেমে আসা দূষিত পানির প্রবাহ বন্ধ করা গেলে এ অঞ্চলের ঐতিহ্য সুতাং নদী দূষণের হাত থেকে বাঁচবে।

পার্কের মহাব্যবস্থাপক এইচএম মঞ্জুরুল হক বলেন, এখানকার উৎপাদিত পণ্য বর্তমানে ১৪১ দেশে রপ্তানি হচ্ছে। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি শায়েস্তাগঞ্জ এলাকায় উন্নত শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করছে তাদের কোম্পানি। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ কারখানা সংলগ্ন একটি স্কুল স্থাপন করা হয়েছে। এ স্কুলে প্রায় ছয়শ' শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এ ছাড়া বেশ কিছু স্কুলে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান, রাস্তাঘাট নির্মাণ, পয়ঃনিস্কাশনের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

পার্কের মহাব্যবস্থাপক (আরএফএল-অ্যাডমিন) ফজলে রাব্বি, সিনিয়র ম্যানেজার (প্রাণ-অ্যাডমিন) এহসানুল হাবিব ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের এজিএম (জনসংযোগ) জিয়াউল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।