চামড়া পণ্যে ইডিএফের ঋণসীমা বাড়ল

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিদেক

চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা শিল্পের জন্য রফতানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) ঋণসীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে এ খাতের উদ্যোক্তারা কাঁচামাল আমদানিতে ইডিএফ থেকে দুই কোটি ডলার পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন, যা আগে ছিল সর্বোচ্চ দেড় কোটি ডলার।

গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক এক সার্কুলারে এ সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলোকে জানিয়েছে। রফতানি আদেশের বিপরীতে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যাক টু ব্যাক এলসিতে কাঁচামাল আমদানি এবং বাল্ক্ক আমদানির জন্য এ ঋণ দেওয়া হয়। এতদিন এলসির মূল্য বা দেড় কোটি ডলারের মধ্যে যেটি কম সেই পরিমাণ ঋণ দেওয়া হতো।

জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তপন কান্তি ঘোষ সমকালকে বলেন, চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি খাত। কিন্তু ২০১৬-১৭ অর্থবছরের পর থেকে এ খাতে রফতানি কমেছে। সরকার চায় এ খাত যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। সেজন্য রফতানি নীতিতে অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ইডিএফ সুবিধা বাড়ানো ও সহজ করার উদ্যোগও রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দেশের চামড়া শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি বড় বিনিয়োগ করাও সহজ হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, এতদিন চামড়া খাত প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে ইডিএফ সুবিধা বিশেষ ব্যবহার করতে পারত না। কারণ চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা শিল্পের জন্য ইডিএফ ঋণ পেতে হলে আগের বছরের প্রকৃত রফতানি ও চলতি বছরের সম্ভাব্য রফতানি হিসাব করে ঋণসীমা অনুমোদন করা হতো। এখন থেকে ঋণ অনুমোদনে এই জটিলতা আর নেই। বিজিএমইএ ও বিটিএমএর সদস্যরা এ তহবিল থেকে আড়াই কোটি ডলার ঋণ পান।

সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক এ তহবিলের পরিমাণ ৫০ কোটি ডলার বাড়িয়ে ৩৫০ কোটি ডলার করেছে। রফতানি আয় বৃদ্ধির ইতিবাচক ধারার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তৈরি পোশাকসহ সব খাতের রফানিকারকদের চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ তহবিলের পরিমাণ বাড়ানো হয়। রফতানি খাতে সহায়তা দিতে ১৯৮৯ সালে মাত্র তিন কোটি ডলার দিয়ে ইডিএফের যাত্রা হয়। বর্তমানে লাইবরের (লন্ডন ইন্টারব্যাংক অফার রেট) সঙ্গে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ যোগ করে ইডিএফের সুদের হার নির্ধারণ করা হচ্ছে। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে লাইবরের সঙ্গে ১ শতাংশ সুদ যোগ করে তহবিল পায়।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ২৫ কোটি ডলারের চামড়াজাত পণ্য রফতানি হয়েছে। পাদুকা রফতানি হয়েছে ৬১ কোটি ডলারের। চামড়াজাত পণ্য রফতানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমেছে। তবে পাদুকা রফতানি আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়েছে।