দক্ষিণ কোরিয়ায় পণ্য রফতানিতে নতুন আশা

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০১৯      

মিরাজ শামস

বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে পণ্য রফতানিতে বড় সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, বর্তমানে দেশটির বাজারে শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া বেশিরভাগ পণ্য রফতানির সক্ষমতা বাংলাদেশের নেই। সম্ভাবনাময় বেশ কিছু পণ্যে শুল্ক্কমুক্ত সুবিধার দাবি জানিয়ে আসছেন উদ্যোক্তারা। গত রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী লি ন্যাক-ইয়ন বাংলাদেশের সব পণ্যে শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। এতে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক ও প্লাস্টিকসহ নতুন নতুন খাতে রফতানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন উদ্যোক্তারা।

কোরিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে দক্ষিণ কোরিয়া বেশিরভাগ পণ্যে শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে। বর্তমানে ৯৫ ভাগ পণ্যে এই সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় ৪ হাজার ৮০২ এইচএস কোড পণ্যে শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা দেয় দেশটি। তবে এ সুবিধার ক্ষেত্রে শর্ত থাকায় অনেক পণ্যে এই সুবিধা মিলছে না। রফতানিতে অনেক ক্যাটাগরিতে এ সুবিধা নেই। কিছু ক্যাটাগরিতে শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা পেতে ৪০ শতাংশ মূল্য সংযোজন থাকতে হয়। এসব শর্তের কারণে তৈরি পোশাক ও প্লাস্টিকসহ নতুন বেশিরভাগ পণ্যে শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যায় না। এসব বিষয় বিবেচনা করে সব পণ্যের শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ।

কোরিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের উপদেষ্টা শাহাব উদ্দিন খান সমকালকে বলেন, এ দেশে তৈরি পোশাক শিল্পের উন্নয়নে দক্ষিণ কোরিয়ার বড় অবদান রয়েছে। তারা পোশাক উৎপাদনে দক্ষ হলেও ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে। ভিয়েতনাম সেখানে পোশাক রফতানিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা পেলে তৈরি পোশাক রফতানির সুযোগ অনেক বেড়ে যাবে। পাশাপশি প্লাস্টিকসহ নতুন অনেক পণ্য রফতানিতে সম্ভাবনা বাড়বে।

এফবিসিসিআইর তথ্য মতে, প্রায় ৩০ বছর ধরে কোরিয়ার সঙ্গে বড় বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। তবে এ দেশের যন্ত্রপাতিসহ নানা প্রযুক্তি পণ্য আমদানির কারণে এই ঘাটতি বাড়ছে। শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা পেলে বাণিজ্য ঘাটতি অনেক কমে আসবে। কোরিয়ার উদ্যোক্তাদের এ দেশে নানা খাতে বিনিয়োগ রয়েছে এবং নতুন করে আরও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। এসব শিল্পে উৎপাদিত পণ্য দেশটিতে রফতানি হলে তখন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে উভয় দেশ লাভবান হবে। গত অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ- নয় মাসে কোরিয়া থেকে ৯৮ কোটি ১২ লাখ ডলারের পণ্য আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে রফতানি হয়েছে ২৯ কোটি ৩৭ লাখ ডলারের পণ্য।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, কোরিয়া বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় বাজার। অপ্রচলিত বাজার শ্রেণিভুক্ত দেশটিতে গত অর্থবছরে তৈরি পোশাক রফতানি বেড়েছে ৪৫ শতাংশ। ২৮ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে এ সময়। বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল সমকালকে বলেন, কোরিয়ার অর্থনীতির আকার বাড়ছে। কোরিয়ানরা সাধারণত খুব ফ্যাশনদুরস্ত পোশাক পরে থাকে। সাধারণ পোশাকের তুলনায় ফ্যাশন পণ্যের চাহিদাই বেশি হারে বাড়ছে। এ ছাড়া এশিয়ার দেশ হওয়ায় স্বল্প সময়ের মধ্যে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব দেশটিতে। সব ধরনের পোশাকে শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া গেলে রফতানি বাড়বে বর্তমানের অন্তত দ্বিগুণ।