তৈরি পোশাকের গড় মূল্য বেড়েছে গত অর্থবছরে

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাকের গড় মূল্য গত অর্থবছরে কিছুটা বেড়েছে। গত অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় দর বেড়েছে দেড় শতাংশের মতো। পরপর তিন বছর টানা দর কমে আসার পর এই বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেল। উদ্যোক্তারা মনে করেন, সংস্কার ব্যয় এবং নতুন কাঠামোয় মুজরি পরিশোধসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বেড়েছে। বর্ধিত এই উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় নামমাত্র দর বৃদ্ধিতে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারছেন না তারা। এ ছাড়া আগের বছরগুলোতে দাম কমে যাওয়ার ক্ষতি তো রয়েছেই।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বরাত দিয়ে বিজিএমইএর দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, সমাপ্ত অর্থবছরে (২০১৮-১৯) পোশাকের গড় দর বেড়েছে আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৪২ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় দর কম ছিল ৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দর কম ছিল ২ দশমিক ১২ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কেজিপ্রতি পোশাকের দর ছিল ১৪ দশমিক ৪ ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কমে হয় ১৩ দশমিক ৭৪ ডলার। পরের বছর ১৩ দশমিক ১৮ ডলার। গত অর্থবছরে বেড়ে হয়েছে ১৩ দশমিক ৩৭ ডলার।

উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পোশাক খাতের সংস্কারের ফলে রফতানি আদেশ বাড়লেও তেমন লাভ হচ্ছে না। সংস্কার এবং মজুরি বাড়ালে পোশাকের মূল্য বাড়ানো হবে- এই প্রতিশ্রুতি রাখেননি ব্র্যান্ড এবং ক্রেতারা। কারখানাপ্রতি ৫ থেকে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে সংস্কার বাবদ। অথচ চার বছরে পোশাকের দাম কমেছে গড়ে ১ দশমিক ৬১ শতাংশ। এ ছাড়া গত ডিসেম্বর থেকে নতুন কাঠামোয় শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো হয়েছে ৫১ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএর সভাপতি ড. রুবানা হক সমকালকে বলেন, গত চার বছরের পোশাকের দর গড়ে প্রায় ২ শতাংশ কমে আসার বাস্তবতা প্রমাণ করে বড় ব্যয়ের সংস্কারে দৃশ্যত কোনো লাভ হয়নি রফতানিকারক উদ্যোক্তাদের। এ দেশে তৈরি পোশাকের ব্যবসা টিকে আছে কোনো রকমে। তিনি বলেন, টেকসই বাণিজ্যের বিপরীতে কোনো রকমে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না।

গত অর্থবছরে মোট ৩ হাজার ৪১৩ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে। এর মধ্যে ওভেন ক্যাটাগরির পণ্য রফতানি থেকে এসেছে এক হাজার ৭২৪ কোটি ডলার। বাকি এক হাজার ৬৮৯ কোটি ডলার এসেছে নিট ক্যাটাগরির পোশাক রফতানি থেকে।

টেক্সওয়েবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশিকুর রহমান তুহিন সমকালকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি ব্র্যান্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে তার প্রতিষ্ঠান। সারাবছরই রফতানি আদেশ থাকে। প্রতিবছরই আগের বছরের তুলনায় কাজ বাড়িয়ে দেয় তারা। তবে গত কয়েক বছরে একবারও দর বাড়ায়নি আমদানিকারক ব্র্যান্ড। দর নিয়ে আলোচনার টেবিলে নানা কৌশল খাটান ব্র্যান্ডের প্রতিনিধিরা। তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য লড়াই শুরু হওয়ার পর দর নিয়ে আলোচনায় ব্র্যান্ড প্রতিনিধিরা কিছুটা নমনীয় হয়েছেন। আলোচনায় সংস্কার ব্যয়, বর্ধিত মজুরিসহ অন্যান্য অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয় কিছুটা হলেও ক্রেতারা আমলে নিচ্ছেন। ছয় মাস ধরে সব রফতানি আদেশেই সামান্য পরিমাণ বাড়তি দাম পাওয়া যাচ্ছে।