২০ বছর পর মাথাপিছু আয় হবে ১২৫০০ ডলার

দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০১৯      

শেখ আবদুল্লাহ

দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত দেশে উন্নীত হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা তৈরি করেছে সরকার। ২০২১ থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত ২০ বছরে কীভাবে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করে উন্নত দেশ হওয়া যায় তার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৪১ সালে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় হবে ১২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। ওই সময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ।

ইতিমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ 'বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০২১-২০৪১) : রূপকল্প ২০৪১' এর খসড়া তৈরি করেছে। খসড়াতে এসব লক্ষ্য নির্ধারণ এবং অর্জনের পথরেখা তুলে ধরে সব মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়গুলোর মতামত নিয়ে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ২০১০ থেকে ২০২১ সাল মেয়াদে প্রথম প্রেক্ষিত পরিকল্পনা করে। এই ১২ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার জিডিটাল বাংলাদেশ গড়া, মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া এবং দারিদ্র্যের হার নামিয়ে আনাসহ বেশকিছু পরিকল্পনা করে।

দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনার খসড়ার সূচনাতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় গত এক দশক ধরে গড়ে ৭ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। ২০১৫ সালে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে দেশ। পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হওয়ার সব সূচকের লক্ষ্য অর্জন করেছে। এই সফলতা বজায় রেখে সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার একটি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ২০২১ থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত সময়ে সরকার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। যেখানে সবার জন্য থাকবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার। এই ২০ বছরে সরকার ধারাবাহিকভাবে চরম দারিদ্র্য দূর, উচ্চ মধ্যম আয় ও উচ্চ আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে।

সরকার মনে করছে, আগামী ৫০ বছর দেশের আর্থ-সামাজিক খাতে দ্রুত রূপান্তর হবে। অর্থনৈতিক অগ্রগতি কৃষির তুলনায় সেবা ও শিল্প থেকে বেশি হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ব্যাপক পরিবর্তন হবে। সব নাগরিকের উন্নতি নিশ্চিত করতে উন্নয়নের সুষম বণ্টনে জোর দেবে সরকার।

দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় প্রধানত দুটো লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। প্রথমটি হচ্ছে, গড় মাথাপিছু আয় ১২ হাজার ৫০০ ডলারে উন্নীত করার মধ্য দিয়ে ২০৪১ সালে বাংলাদেশ একটি উন্নত দেশ হবে। দ্বিতীয় লক্ষ্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, উদ্ভাবনী জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।

এই প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৮ শতাংশ। ২০৩০ সালে গিয়ে যা বেড়ে দাঁড়াবে ৮ দশমিক ৯ শতাংশে। পরের ১০ বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি আরও এক শতাংশ বেড়ে ৯ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হবে। পাশাপাশি চলতি অর্থবছর শেষে চরম দারিদ্র্যের হার ৯ দশমিক ৬ শতাংশে এবং দারিদ্র্যের হার ১৮ শতাংশে নেমে আসবে বলে আশা করছে সরকার। ২০৩০ সালে চরম দারিদ্র্য নির্মূল করে দারিদ্র্যের হার ৯ দশমিক ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে প্রেক্ষিত পরিকল্পনায়। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ যখন উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছাবে, তখন দারিদ্র্যের হার ৫ শতাংশের কম রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ বলেছে, দীর্ঘ এই যাত্রার লক্ষ্য অর্জনে ব্যাপক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের শুরুতেই দরকার শক্তিশালী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ। উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য কমানো ও বৈষম্য দূর করে টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকারের ব্যয়ের নীতিতে পরিবর্তন আনার পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে এই পরিকল্পনায়। সরকার মনে করছে, দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রম কৃষি থেকে শিল্পে রূপান্তর হবে। গ্রাম থেকে শহরে স্থানান্তর ঘটবে ব্যাপকভাবে।