সাত মাসে ৫০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াবে নতুন ৪ কি গ্যান্টিক্রেন

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০১৯

সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিনের। বন্দর ব্যবহারকারীরা যন্ত্রপাতি সংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতার সমাধান করে বন্দর গতিশীল করতে বলেছেন। নানা কারণে গত দুই দশকে কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোতে পারেনি দেশের প্রধান এ সমুদ্রবন্দর। তবে দেরিতে হলেও এখন জট খুলছে। বন্দরে যোগ হচ্ছে ভারী যন্ত্রপাতি। সর্বশেষ বুধবার ২৩৮ কোটি টাকায় কেনা নতুন চারটি 'কি' গ্যান্টিক্রেন এসেছে।

এ নিয়ে কি গ্যান্টিক্রেনের সংখ্যা দাঁড়াল ১৪। সব মিলিয়ে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে বন্দরে মোট ৫০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয়েছে। পাইপলাইনে আছে আরও প্রায় ৫০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। ডিসেম্বরে এগুলোও যুক্ত হবে বহরে।

দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের ৯২ শতাংশ এখনও এককভাবে হয় চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে। প্রতিবছর গড়ে ১০ থেকে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সামাল দিতে হচ্ছে দেশের প্রধান এ সমুদ্রবন্দরকে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি কম। বন্দর ব্যবহারকারীরা পণ্য খালাসে গতি আনতে সক্ষমতা বাড়াতে জোর দাবি  জানিয়ে আসছিলেন।

এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএর বন্দর ও কাস্টমবিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরকে এগোতে হবে সময়ের হাত ধরে। সীমিত সামর্থ্য দিয়ে তারা এখন সর্বোচ্চ সেবা দিচ্ছে। তাই নতুন টার্মিনাল নির্মাণ এবং বহরে যন্ত্রপাতি যুক্ত করে ও দক্ষ জনবল নিয়োগ দিয়ে সক্ষমতা বাড়াতে হবে বন্দরকে। দেরিতে হলেও বন্দরে যন্ত্রপাতি আনা ভালো খবর। এসব পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজ জানান, প্রতিষ্ঠার ১৩১ বছরের মধ্যে গত অর্থবছরে সর্বোচ্চসংখ্যক যন্ত্রপাতি এসেছে বন্দরে। ২০১৮ সালে এক হাজার কোটি টাকার অন্তত ৬০টি নতুন যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে। গত সাত মাসে এসেছে আরও ৫০০ কোটি টাকার। এ বছর আরও ২০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি আনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। নতুন বছরে বে-টার্মিনাল ও লালদিয়া টার্মিনাল স্থাপন প্রকল্পের কাজ চলছে পুরোদমে। তিনি আরও জানান, বন্দর চ্যানেল বিপদমুক্ত করতে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কাজও শুরু হয়েছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়বে।

বন্দরের প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আমিনুল ইসলাম বলেন, চারটি কি গ্যান্টিক্রেন, তিনটি রাবার টায়ার্ড গ্যান্টিক্রেন, নয়টি স্ট্রাডল ক্যারিয়ার, ১২টি ফর্কলিফট, তিনটি রিচ স্টেকার ও চারটি ক্রেন যুক্ত হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে। কি গ্যান্টিক্রেনগুলো জেটিতে স্থাপনের কাজ চলছে। এ ছাড়া আরটিজি, স্ট্রাডল ক্যারিয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ আরও অর্ধশত যন্ত্রপাতি যুক্ত হবে আগামী পাঁচ মাসে। এগুলো কার্যক্রমে যুক্ত হলে বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।