কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প স্থাপন করুন :বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি উদ্বৃত্ত কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপনে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে আলু প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবসায়ীদের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, রফতানি আয় বাড়াতে পণ্য বহুমুখীকরণ জরুরি।

গতকাল বৃহস্পতিবার ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশের (আইবিএফবি) বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন রশিদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) গবেষণা পরিচালক ড. এম এ রাজ্জাক। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের আবাসিক পরিচালক জিওফ্রে ম্যাকডোনাল্ড ও ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের চিফ অব মিশন জিওরজি গিগাউরি বক্তব্য দেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশ এগোচ্ছে। অনেক সুখের খবর আছে। ধানের উদ্বৃত্ত উৎপাদনের ফলে সরকার দুই লাখ টন চাল রফতানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিবছর আলুর উৎপাদন বাড়ছে। বর্তমানে দেশের চাহিদার চেয়ে ৩০ লাখ টন আলু বেশি উৎপাদিত হচ্ছে। দুঃখ এখানেই যে, এই উদ্বৃত্ত আলু রফতানি করা সম্ভব হচ্ছে না। কিছু আলু রফতানি হলেও ক্রেতাদেশ ব্যাকটেরিয়াসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা বলছে; যেগুলো মাটি, আবহাওয়াজনিত সমস্যা। এসব আলু প্রক্রিয়াজাত করা গেলে এ সমস্যা থাকবে না। এ জন্য এ খাতে প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপনে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

টিপু মুনশি বলেন, সরকার বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। বিদেশিদের মুনাফা ও মূলধন ফেরত নেওয়া সহজ করা হয়েছে। বাণিজ্য-সংক্রান্ত অনেক সেবাই এখন অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে। তবে পণ্যের বৈচিত্র্য আনার কাজটি ব্যবসায়ীদের করতে হবে। এ জন্য উদ্ভাবনী মেধা দরকার।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, বেসরকারি খাত দেশের অগ্রগতিতে প্রধান ভূমিকা রাখছে। এ জন্য বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগগুলো সময়মতো বাস্তবায়ন করতে হবে।

আইবিএফবি সভাপতি বলেন, ৮ শতাংশেরও বেশি হারে প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য জ্বালানি ও যোগাযোগ খাতে বিনিয়োগ আরও বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। এ জন্য বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে হবে। এতে মুদ্রা পাচার কমবে।