চীনে পোশাক রফতানি বেড়েছে ৪৪ শতাংশ

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে চীনে ৩৯ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৪৪ শতাংশ। চীনে নিট পোশাকের তুলনায় ওভেনের রফতানি বেশি হয়। তবে গত কয়েক মাসে নিটের চাহিদাও বাড়ছে। আলোচ্য সময়ে নিটের রফতানি বেড়েছে ৫২ শতাংশ। রফতানি হয়েছে ১৭ কোটি ডলারের নিটপণ্য। অন্যদিকে ওভেনের রফতানি বেড়েছে ৩৮ শতাংশ। রফতানি হয়েছে ২২ কোটি ডলারের ওভেন পোশাক।

আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রধান অংশীদার চীন। সারাবিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যের প্রায় ২৭ শতাংশই হয় চীনের সঙ্গে। তবে এ অংশীদারিত্বে এক তরফা আধিপত্য চীনের। বাণিজ্য ঘাটতি দেশটির অনুকূলে ৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে চীন আমদানি করে মাত্র ১৫ শতাংশ। বিপরীতে এ দেশে রফতানি করে ৮৫ শতাংশ। বাংলাদেশের মোট রফতানিতে চীনের অংশ মাত্র ৩ শতাংশের কিছু বেশি।

তবে রফতানি বাণিজ্যে চীনকে সম্ভাবনাময় বড় বাজার হিসেবে দেখছেন রফতানিকারক উদ্যোক্তারা। বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, দেড়শ' কোটি জনসংখ্যার চীন তৈরি পোশাকের প্রধান রফতানিকারক দেশ হলেও অভ্যন্তরীণ পোশাক বাজার তিন হাজার কোটি ডলারের। নিজস্ব উৎপাদনের বাইরেও বছরে প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করে দেশটি। ফলে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বড় বাজার তারা। এই সম্ভাবনা সত্ত্বেও বাংলাদেশের রফতানিতে খুব বেশি গতি নেই।

তবে প্রধানমন্ত্রীর এবারের চীন সফরে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হকসহ সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা রয়েছেন। সে দেশের সরকার এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। চীনে রফতানি কম প্রসঙ্গে উদ্যোক্তারা বলেন, চীনের চাহিদা উপযোগী পোশাক বাংলাদেশ কমই উৎপাদন করে থাকে। চীনে স্যুট, ব্লেজার, ফুলওভারের চাহিদা বেশি। বাংলাদেশ এখনও এসব পণ্যে পুরো মনোযোগ দিতে পারেনি। এ কারণে বড় বাজার এবং শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা সত্ত্বেও ওই বাজারে রফতানি প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়ছে না।

কেন গতি নেই জানতে চাইলে বিজিএমইএ সহসভাপতি এম রহিম ফিরোজ গতকাল সমকালকে বলেন, প্রায় পাঁচ হাজার পণ্যে শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা বা জিএসপি ঘোষণা সত্ত্বেও উৎস বিধির জটিল শর্তের কারণে রফতানিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। কারণ, ৪০ শতাংশ পণ্যকে এ সুবিধার আওতায় রাখা হয়নি। ৬০ শতাংশ পণ্যে এই সুবিধা রয়েছে। আবার উৎস বিধির শর্তও বেশ জটিল। তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে ৪৪ শতাংশ মূল্য সংযোজন করতে হয়।