নতুন উদ্যোক্তা ও গ্রামে কমেছে এসএমই ঋণ

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

শিক্ষিত বেকার যুবকদের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোগে যুক্ত হতে তাদের অর্থায়নে ব্যাংকগুলোকে বিভিন্ন উপায়ে উৎসাহিত করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সরকারও চাইছে বেকাররা শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নতুন উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হোক। গ্রামীণ উন্নয়নেও নানা পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এমন পদক্ষেপের মধ্যেও নতুন উদ্যোক্তা ও গ্রামে কমেছে এসএমই ঋণ।

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে নতুন উদ্যোক্তাদের মাঝে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ কমেছে প্রায় ১৭ শতাংশ। অন্যদিকে গ্রামে ঋণ কমেছে এক দশমিক ২২ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের জানুয়ারি-মার্চভিত্তিক তথ্য থেকে এ চিত্র উঠে এসেছে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, তারল্য সংকটের কারণে ব্যাংকগুলো পুরাতন গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। এতে করে নতুন উদ্যোক্তাদের মাঝে ঋণ বিতরণ কমেছে। একই কারণে ব্যাংকগুলোর গ্রামীণ এসএমই ঋণও কমেছে। তবে নানা সংকটের মধ্যেও সামগ্রিকভাবে এসএমই ঋণ বৃদ্ধিকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তারল্য পরিস্থিতি ভালো হলে এ সংকট কেটে যাবে বলে তারা আশা করছেন।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এসএমই খাতের এক লাখ ৮৭ হাজার ৫০৬ উদ্যোক্তার মাঝে মোট ৩৭ হাজার ২৮৭ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। আগের বছরের একই সময়ে এক লাখ ৬৬ হাজার উদ্যোক্তাকে দেওয়া হয়েছিল ৩৬ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। এবারে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৮৬৮ কোটি টাকা।

জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বিতরণ করা ঋণের মধ্যে ৩০ হাজার ৫২০ নতুন উদ্যোক্তাকে দেওয়া হয়েছে ৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে ৪৫ হাজার ৫২১ নতুন উদ্যোক্তার মাঝে বিতরণ করা হয় ৬ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা। এ হিসাবে এবারে নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণ কমেছে এক হাজার ১১০ কোটি টাকা, যা ১৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ। উদ্যোক্তার সংখ্যা কমেছে ১৫ হাজার।

অন্যদিকে, বছরের প্রথম তিন মাসে ৫৭ হাজার ৬শ' গ্রামীণ উদ্যোক্তার মাঝে ৮ হাজার ২৫৩ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। আগের বছর ৫১ হাজার ৭৫১ উদ্যোক্তাকে দেওয়া হয়েছিল ৮ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। এ হিসাবে গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের মাঝে ঋণ বিতরণ কমেছে ১০২ কোটি টাকা। অবশ্য জামানতবিহীন ঋণ বিতরণ আগের তুলনায় বেড়েছে। প্রথম তিন মাসে ৪৩ হাজার ৭৬০ উদ্যোক্তাকে জামানত ছাড়া ৫ হাজার ৭১৬ কোটি টাকার ঋণ দেওয়া হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে ৪৩ হাজার ৫৩৩ উদ্যোক্তা পেয়েছিলেন ৪ হাজার ৯১৬ কোটি টাকার ঋণ। এ হিসাবে এবার জামানত ছাড়া ঋণ বেড়েছে ৮০০ কোটি টাকা।