দ্রুত অর্থছাড়, বাস্তবায়নে গতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

ভারতীয় ঋণের অর্থছাড়ের গতি বাড়াতে এবং প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে বিদ্যমান জটিলতা দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে উভয় দেশ। এ বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে তৃতীয় এলওসি প্রকল্পগুলো দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিবেশী দেশটি। এ ছাড়া তিনটি লাইন লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় সব প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়ন শুরু এবং শেষ করতে বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরকে সহযোগিতা করতে আবারও একমত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় দু'দিনের ১৫তম এলওসি পর্যালোচনা বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়।

ঢাকায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সম্মেলন কক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন ইআরডির যুগ্ম সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব অজয় কুমার। বৈঠকে এক্সিম ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাস্তবায়নকারী সংস্থা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে উপস্থিত ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, প্রথম এলওসি আওতায় ১২টি প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও কিছু সমস্যা থাকায় রেলের তিন প্রকল্প এখনও জটিলতার মধ্যে আছে। প্রকল্পগুলো হলো খুলনা-মোংলা রেললাইন নির্মাণ, ঢাকা-টঙ্গী তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েলগেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ এবং কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশন পুনর্বাসন প্রকল্প। এ তিন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণে ২০১০ সালে ৭ আগস্ট চুক্তি হওয়া প্রথম এলওসির ৮৬ কোটি ২০ ডলার ঋণের মধ্যে অর্থছাড় হয়েছে ৫২ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

কর্মকর্তারা আরও জানান, ২০১৬ সালে বাস্তবায়নে শুরু হওয়া খুলনা-মোংলা রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ এখনও বাকি আছে। এ ছাড়া রূপসা সেতুর কারণে ডিজাইনের কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। সেতু নির্মাণে পাইলিংয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ রেলওয়ে এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে বলে সভায় জানিয়েছে। প্রকল্পটিতে নিয়োগপ্রাপ্ত ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিলম্বে বিল পরিশোধেরও অভিযোগ উঠেছে রেলওয়ের বিরুদ্ধে। বৈঠকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া আশ্বাস দেয় রেলওয়ে। প্রকল্পটিতে ভারত ৩০ কোটি ৮৯ লাখ ডলার ঋণ দিচ্ছে। এ প্রকল্পে এখন পর্যন্ত ভৌত অগ্রগতি ৫৪ শতাংশ।

অন্যদিকে ঢাকা-টঙ্গী ডুয়েলগেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা রয়েছে। এ ছাড়া এ রুটে একটি এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ হচ্ছে। এ কারণে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ প্রকল্পে নিয়োগপ্রাপ্ত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চলতি মাসে কাজ শুরু করবে। প্রকল্পে ভারতের ঋণ ব্যবহার করা হবে ১২ কোটি ৩১ লাখ ডলার। এখনও পর্যন্ত প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি মাত্র ১৮ শতাংশ।

কর্মকর্তারা জানান, চুক্তির সাড়ে তিন বছর পরও দুই বিলিয়ন ডলারের দ্বিতীয় এলওসির অর্থছাড় মাত্র এক কোটি ৪০ লাখ ডলার। ২০১৬ সালের ৮ মার্চে এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি সই হওয়ার পর দ্বিতীয় এলওসির ১৫ প্রকল্প সম্মতি পেতে লেগে যায় তিন বছর। অনুমোদন প্রক্রিয়া ছাড়াও বাণিজ্যিক চুক্তিতে ভারতের এক্সিম ব্যাংকের সম্মতি পেতে কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। এ কারণে ভারতের অর্থছাড়ও আটকে গেছে। এ ছাড়া বাস্তবায়ন কাজের গতিও কম। এ কারণে অর্থছাড়েও গতি নেই। ১৫ প্রকল্পের মধ্যে মাত্র চারটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। দ্বিতীয় এলওসির অর্থছাড় বাড়াতে বাস্তবায়ন কাজে গতি বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ।

এ দিকে বৈঠকে তৃতীয় এলওসি প্রকল্পগুলো দ্রুত অনুমোদন দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। তৃতীয় এলওসির ১৬ প্রকল্পের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ভারতের প্রাথমিক সম্মতি আদায়ে পাওয়া গেছে তিন প্রকল্পে। তবে কোনো প্রকল্পেরই এখনও চূড়ান্ত সম্মতি পাওয়া যায়নি। ২০১৭ সালের ৪ অক্টোবর ভারতের সঙ্গে তৃতীয় এলওসির ঋণ চুক্তি সই হয়। তৃতীয় এলওসির আওতায় অবকাঠামো খাতের বেশ কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে।