চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে নতুন স্ক্যানার ও আরপিএম

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০১৯

সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম

দেশের রাজস্ব আহরণের উল্লেখযোগ্য অংশ আসে প্রধান সমুদ্রবন্দরের মাধ্যমে। সর্বশেষ অর্থবছরেও চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম থেকে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছে এনবিআর। অথচ ব্যস্ততম বন্দরে নেই পর্যাপ্ত কনটেইনার স্ক্যানার মেশিন ও রেডিওয়েক্টিভ পোর্টাল মনিটর (আরপিএম)।

আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি পণ্যের বেশির ভাগ এখনও খালাস হচ্ছে কোনো ধরনের পরীক্ষা ছাড়া। মোট আমদানি পণ্যের মাত্র ১০ শতাংশ এখন শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করতে পারছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। অথচ কনটেইনারে ঘোষণাবহির্ভূত কিংবা বিস্টেম্ফারক জাতীয় পণ্য স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পর্যাপ্ত আধুনিক সরঞ্জাম না থাকায় এ নিয়ম অনুসরণ করতে হিমশিম খাচ্ছেন বন্দর ও কাস্টমসের কর্মকর্তারা।

এমন পরিস্থিতিতে শতকোটি টাকা ব্যয়ে আপাতত নতুন দুটি স্ক্যানার ও আটটি আরপিএম বসানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে এনবিআর। দরপত্রের যাবতীয় প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শেষ হওয়ায় শিগগির নতুন এসব সরঞ্জাম যুক্ত হবে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে। পণ্য পরীক্ষায় চরম অসুবিধা হওয়ার কথা উল্লেখ করে ২০১৬ সালের মার্চে এনবিআরের কাছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ প্রধান এ সমুদ্রবন্দরের জন্য নতুন আরও ১২ স্ক্যানার ও ১০ আরপিএম জরুরিভিত্তিতে স্থাপনের জন্য আবেদন করেছিল। এ প্রস্তাব পাঠানোর তিন বছর পর আসছে নতুন এসব যন্ত্রপাতি।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম বলেন, আমদানি পণ্যের সঠিকতা নির্ণয়ে শিগগির চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন দুটি স্ক্যানার ও আটটি রেডিয়েশন ডিক্টেটর মেশিন বসার কথা রয়েছে। এখন চারটি স্ক্যানার দিয়ে কাজ চলছে।

জেটি শাখায় কর্মরত কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার সাধন কুমার কুণ্ডু বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতিবছর গড়ে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ হারে বাড়ছে আমদানি- রফতানি কার্যক্রম। বর্ধিত এ বাণিজ্য সামাল দিতে হলে বন্দরের প্রতিটি গেটে দরকার আধুনিক কনটেইনার স্ক্যানার। মাত্র চারটি স্ক্যানার দিয়ে এখন কাজ করতে হচ্ছে। সন্দেহভাজন না হলে আমদানি করা পণ্যের সাধারণত ১০ শতাংশ কায়িক পরীক্ষা করা হয়। সব পণ্য কায়িক পরীক্ষা করতে গেলে জট লেগে যাবে বন্দরের কার্যক্রমে। আসলে ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য আনার কার্যক্রম কঠোরভাবে মনিটর করতে হলে আধুনিক যন্ত্রপাতির বিকল্প নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঘোষণাবহির্ভূত ও বিস্টেম্ফারক জাতীয় পণ্য আমদানির ঝুঁকি কমাতে চট্টগ্রাম পোর্ট ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন প্রকল্পের আওতায় ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে স্ক্যানিং বাধ্যতামূলক করা হয় বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

স্ক্যানিং ছাড়াই খালাস হচ্ছে ৫৫ শতাংশ পণ্য :চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার আমদানির পরিমাণ প্রতিবছর বাড়ছে। ১০ বছর আগের তুলনায় এখন দেড় গুণ বেশি কনটেইনার ওঠানামা হচ্ছে এ বন্দরে। যে হারে বাণিজ্য বেড়েছে, সে হারে বাড়েনি স্ক্যানারের সংখ্যা। তাই আমদানি করা বাড়তি পণ্যের একটি বড় অংশ বের হয়ে যাচ্ছে স্ক্যানিং ছাড়াই।

বন্দরে স্ক্যানিং কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সুইজারল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান এসজিএস বলছে, পর্যাপ্ত

স্ক্যানার না থাকায় বেশির ভাগ পণ্য এখন স্ক্যানিং করতে পারছেন না তারা।

এ প্রতিষ্ঠানের ২০১৬ সালের এক হিসাব বলছে, গড়ে ৫৫ শতাংশ পণ্যের স্ক্যানিং করা সম্ভব হচ্ছে এখন। ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৬ সালের মার্চ পর্যন্ত পাঁচ মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানিতে ৯ লাখ ২ হাজার ৪৭০টি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৪ লাখ ২৫ হাজার ৬৮৯ কনটেইনার স্ক্যানিং করা হয়। স্ক্যানিং ছাড়া বের হয়েছে পণ্যভর্তি ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৭৮১টি বা ৫৫ শতাংশ কনটেইনার। এ সময়ে স্ক্যান করা কনটেইনারের মধ্যে সাত হাজার ৪৪৮টিতে ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য আনার পাশাপাশি বিস্টেম্ফারক দ্রব্য, মাদক ও আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য ধরা পড়ে।